kohinur hira.jpgবিশ্বের বৃহত্তম হীরা কোহিনূর নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলে আসছে নানা আলোচনা। হীরাটি যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ফেরত চেয়ে ব্রিটিশ আদালতে ভারতীয়দের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিখ্যাত কোহিনূর হীরা ব্রিটেনকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল- এমন ঘোষণা দেওয়ার এক দিনের মাথাতেই ইউটার্ন নিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোহিনূর ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে কোহিনূর হীরা ফেরত আনা সম্পর্কিত এক মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আইনজীবী রণজিৎ কুমার আদালতকে জানান, এটি চুরি হয়নি বা ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি। শিখযুদ্ধে সহায়তার জন্য মহারাজা রণজিৎ সিং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে কোহিনূর হীরা উপহার দেন। ফলে এর দাবি করতে পারে না ভারত।
ব্যাপক সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আইনজীবী রণজিৎ কুমারের যে বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে সরকারের মত প্রতিফলিত হয়নি। বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে কোহিনূর ফিরিয়ে আনতে সরকারের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এবার কোহিনূর হীরা আলোচনা নতুন মোড় নিলো। কোহিনূরের মালিক মূলত পাকিস্তান বলে দাবি করেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’কে লর্ড মেঘনাদ দেশাই নামের ওই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘যদি কোহিনূরের মালিক কেউ হয়ে থাকে তবে এর মালিক পাকিস্তান।’
উনিশ শতকের শিখ রাজা রঞ্জিত সিংয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তিনি এই হীরাটি ব্রিটিশদের দিয়েছিলেন। যেহেতু তার আসন ছিল পাকিস্তানে তাই হীরাটি পাকিস্তানেরই পাওয়া উচিৎ।
লর্ড মেঘনাদ আরো বলেন, ‘রঞ্জিত সিংয়ের বাড়ি পাকিস্তানের লাহোরে। সেখানে তার নামে একটি জাদুঘরও আছে। তাই এটি পাঞ্জাব প্রদেশে ফিরিয়ে দেয়া উচিৎ। আমি মনে করি, কোহিনূরের মালিক যদি কেউ হয়ে থাকে তবে তা পাকিস্তান।’
ভারতের বিভিন্ন মহল দীর্ঘ দিন ধরেই কোহিনূর ফেরত দেয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। হীরাটি ফিরিয়ে আনতে চেয়ে একাধিক মামলাও হয়েছে। ভারতীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও বলিউড তারকারা কোহিনুর ফেরত পেতে লন্ডন হাইকোর্টে মামলার উদ্যোগ নেন। মামলা হয় ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার ২০১৩ সালে কোহিনূর ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
উল্লেখ্য, জগদ্বিখ্যাত কোহিনূর হীরাটি একসময় ছিল ভারতের গর্ব। তখন ভারত ছিল ভারতবর্ষ। তারপর একের পর এক বিদেশি শক্তির হানায় হীরা কোহিনূর নানা হাত ঘুরে চলে যায় ব্রিটেনে। অনেকের মতে, ১৯০ বছরের শাসনামলে হীরাটি চুরি করে নিয়ে যায় ব্রিটিশরা।
কয়েকশো বছর আগে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কল্লুর খনি থেকে যখন হীরাটি পাওয়া গিয়েছিল তখন তা ছিল ৭৯৩ ক্যারেটের বিশাল একটি হীরা। তারপর হীরাটি কাটিং করে ছোট করা হয়। বর্তমানে তা ১০৫.৬ ক্যারেটের। বাজারদর ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড। বর্তমানে ব্রিটিশ রানী এলিজাবেথের মুকুটে জ্বলজ্বল করে কোহিনূর।