mukti (haranor voe hotta)রাজধানীর উত্তরখান এলাকার বাসিন্দা ফাহমিদা মীর মুক্তি নিজের দেড় বছরের ছেলে নেহালকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে ফাহমিদা মীর মুক্তিকে আসামি করে উত্তরখান থানায় একটি মামলা করেছেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার উত্তরখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, যেহেতু ফাহমিদা মীর মুক্তি নিজেই তার শিশু সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন, তাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন কারা কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসা করাবে।
জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে ধানমন্ডিতে থাকা অবস্থায় ফাহমিদা মীর মুক্তি ও সাজ্জাদ হোসেনের মধ্যে প্রেম হয়। এক বছর প্রেম করার পর তাদের বিয়ে হয়।  সাজ্জাদ হোসেন নিজের পছন্দে একা একা বিয়ে করায় পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক নষ্ট হয়। পরিবারের কেউ তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখেননি। এরপর তারা উত্তরখানের মাস্টারপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নেন।
সাজ্জাদ হোসেন একসময় গার্মেন্টস ব্যবসা করতেন। ব্যবসায় লোকসান হওয়ার পর উত্তরা নর্থ টাওয়ার শপিং মলে লেডিস কর্ণার নামের একটি দোকানে সেলসম্যানের চাকরি নেন।
ঘটনার তিন দিন আগে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে তারা ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নেহাল কার কাছে থাকবে, তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। সাজ্জাদ হোসেন চান, নেহাল বাবার কাছে থাকবে। মুক্তিও ছেলেকে নিজের কাছে রাখতে চান।
সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, মুক্তির মানসিক সমস্যা আছে। প্রায় দিনই মুক্তি শিশু সন্তানের সামনেই সিগারেট খায়। এতে নেহালের শরীরে মায়ের দুধের মাধ্যমে নিকোটিন চলে যাবে বলে যুক্তি দেখান সাজ্জাদ হোসেন।কিন্তু মুক্তি বলেন, প্রয়োজনে নেহালকে মেরে ফেলব, তবুও তোমার কাছে দেব না।
সাজ্জাদ হোসেন জানান, মুক্তি তাকে বিয়ের পর থেকেই সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতেন। তিনি নাকি কার কার সঙ্গে প্রেম করেন, এ নিয়ে অনেকবার ঝগড়া হয়েছে। পরিবারে অশান্তি হয়েছে। উভয়ের মধ্যে মারামারি হয়েছে। অন্যদিকে  সাজ্জাদও মুক্তিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতেন বলে স্বীকার করেছেন।
সাজ্জাদ হোসেন জানান, প্রথম স্ত্রী চলে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি তিনি। আর মুক্তির আগের স্বামী কানাডায় থাকেন। তার আগের ঘরে সাদিয়া নামের একটি মেয়ে আছে। ওই মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তার আগের স্বামীর সঙ্গেও কথা বলতেন মুক্তি। এতে তিনি রাগ করতেন। একাধিকবার কথা বলতে বারণ করেছেন। কিন্তু মুক্তি তা শোনেননি।
সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলের পরিবর্তে যদি আমাকেই মেরে ফেলত, তাও ভালো ছিল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব? আমার ছেলেটা আমাকে অফিসে যেতে দিচ্ছিল না। সে বারবার কান্না করছিল। কোলে উঠে শার্টের কলার চেপে ধরেছিল। জোর করে নামিয়ে দিয়ে অফিসে চলে যাই। রাতে ফিরে দেখি, ছেলে আমার নিথর, নিস্তব্ধ। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, মা কীভাবে তার দুধের শিশুকে হত্যা করতে পারে।’
এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ কুমার জানিয়েছেন, মুক্তির মানসিক সমস্যা আছে। তার চিকিৎসা প্রয়োজন।
এর আগে বছরের শুরুতে রাজধানীর বনশ্রীতে মা মাহফুজা আক্তার তার দুই সন্তানকে নিজ হাতে হত্যা করেন বলে পুলিশ দাবি করছে। তিনি এখন কারাগারে আছেন।