west-indies-pic.jpgটি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের প্রাক্কালে আচরণগত সমস্যা ও অসংলগ্ন মন্তব্যের অজুহাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে অফিসিয়ালি তিরস্কার করেছে আইসিসি। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ৩ এপ্রিলের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে ডোয়াইন ব্রাভোর ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানে মাতেন গেইল-স্যামি-ব্রাথওয়েট-স্যামুয়েলসরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর উদ্দাম উদ্‌যাপন, নিজেদের অন্তরের ক্ষোভ উগরে দেওয়া কিংবা মারলন স্যামুয়েলসের সেই পা টেবিলে তুলে সংবাদ সম্মেল—আইসিসি কোনোটাকেই ভালোভাবে নেয়নি। গত রোববার দুবাইয়ে আইসিসির বৈঠকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়ের পর ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের আচরণকে ‘ক্রিকেটের প্রতি অবমাননা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
কিন্তু, বিশ্বকাপ শুরুর আগে ক্যারিবীয় দলের আসর থেকেই নাম প্রত্যাহারের এমনা শঙ্কা জেগেছিল! ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের (ডব্লিউআইসিবি) সঙ্গে খেলোয়াড়দের চুক্তি ইস্যুতে বিরোধের জের ধরেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। যা নিয়ে তো গোটা ক্রিকেট বিশ্বেই হইচই পড়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন তকমা গায়ে লাগায় ক্যারিবীয়রা। ফাইনাল শেষে আবেগপ্রবণ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি তো নিজ দেশের বোর্ডের ওপরই ক্ষোভ ঝাড়েন। শুধু তাই নয়, এর ক’দিন পরই স্যামির কথার প্রতিধ্বনি আসে সতীর্থ ডোয়াইন ব্রাভোর কণ্ঠেও। এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ডব্লিআইসিবিকে সবচেয়ে অপেশাদার ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে অভিহিত করেন। বোর্ড প্রেসিডেন্টকেও ছেড়ে কথা বলেননি। ডেভ ক্যামেরনকে ‘অপিরণত’, ‘সংকীর্ণ মনের মানুষ’ ও ‘অহংকারী’ হিসেবে আখ্যা দেন ব্রাভো।
যাই হোক, দুবাইয়ে অায়োজিত রোববারের (২৪ এপ্রিল) আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিমের অভূতপূর্ব `ট্রেবল’ জয়ের জন্য ডব্লিউআইসিবিকে অভিনন্দন জানানো হয়। এ বছর নারী টি-২০ বিশ্বকাপ ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপাও ঘরে তোলে ক্যারবীয়রা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলোয়াড়দের তিরস্কার করতেও ছাড়েনি আইসিসি। স্যামি-ব্রাভোদের মন্তব্যতে ‘অনুপযুক্ত’ ‘অসম্মানকর’ ইভেন্টে তা দুর্নাম বয়ে আনে বলে জানানো হয়। কোড অব কন্ডাক্ট অনুযায়ী খেলোয়াড়দের শাস্তির সম্মুখীন করানোর ব্যাপারটি গুরুতরভাবে বিবেচনা করা হতে পারে বলেও আভাস পাওয়া গেছে। যেটার ফলাফল হতে পারে জরিমানা কিংবা ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা!
এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, ‘টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলোয়াড়দের আচরণের দিকটি বোর্ড (ডব্লিউসিবি) আমলে নেয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে এ ধরনের মন্তব্য ও আচরণকে অনুপযুক্ত, অসম্মানকর এবং তা ইভেন্টে দুর্নাম বয়ে আনে বলে সম্মতি জানায়। বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষের সামনে আইসিসি ইভেন্টের খেলায় এমন আচরণ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।’