hasina songshad.jpgবাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় দেশের অর্থনীতিতে আপাত ক্ষতি হলেও দীর্ঘ মেয়াদে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ইতোমধ্যে কিছু অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাকি অর্থও ফেরত আনা যাবে।
বুধবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো.সেলিমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানান, হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়ার ফলে আরও বড় রকমের হ্যাকিং বন্ধ করা গেছে।
একইসাথে ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতায় অর্থ ফেরত আনার তৎপরতার ফলে এ বিষয়ে সম্ভাব্য বিরূপ পরিস্থিতি ঠেকানো গেছে। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন একটি রিপোর্ট দিয়েছে। সেই মোতাবেক নানামুখি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এসব তৎপরতার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘ মেয়াদে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
শেখ হাসিনা আরও জানান, মুদ্রানীতি গ্রহণের প্রাক্কালে ২০১৬ এর জুনের শেষে যে পরিমাণ নিট বৈদেশিক সম্পদের (১ হাজার ৮৬৬ বিলিয়ন টাকা) লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয়েছে তার তুলনায় মার্চের শেষে প্রকৃত নিট বৈদেশিক সম্পদের পরিমাণ, রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের পরেও দাঁড়িয়েছে অনেক বেশি অর্থাৎ ১ হাজার ৯৮১ বিলিয়ন টাকা। সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় মুদ্রানীতি বাধাগ্রস্ত হওয়ারও কোনো আশঙ্কা নেই।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি যায়। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলংকা থেকে ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে কিছু অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তবে বেশিরভাগ অর্থ এখনো ফেরত আসেনি।