sundorbon fir.jpgবিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবনে পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থামছে না। গেল এক মাসের মধ্যে চার চারবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটলো। গত ২৮ মার্চ সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন এলাকায় নাংলি ফরেস্ট ক্যাম্পের কাছে চলতি বছরে প্রথমবারের মতো আগুন লাগে। তবে ওই আগুনে বনের কত একরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
ওই ঘটনার ১৬দিন পর ১৩ এপ্রিল সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন এলাকায় আবারো আগুন লাগে। বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বনের ভেতর ফায়ার লাইন কেটে সে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয় তাও থেকে যায় অজানা।
দ্বিতীয় দফার আগুনে নিভতে না নিভতেই চারদিন পর ১৮ এপ্রিল আবারো সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধান সাগর স্টেশনের নাংলী ফরেস্টক্যাম্প এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। সে অগ্নিকাণ্ডেও ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয় তাও থেকে যায় অজানা।
সর্বশেষ ২৭ এপ্রিল বুধবার আবারো চাঁদপাইরেঞ্জের ধানসাগর ফরেস্ট ক্যাম্পের আড়ুয়াদের খাল এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
গত তিন দফায় অগ্নিকান্ডে প্রায় ১৩ একর জুড়ে বনভুমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বনবিভাগের তদন্তে বের হয়েছে যে এসব অগ্নিকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত। এ পর্যন্ত ১১ জনকে আসামি করে বনবিভাগের কর্মকর্তারা দুটি মামলা দায়ের করেছে। তবে এসব মামলায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
তবে প্রাপ্ত তথ্যমতে, নিকট অতীতে আরো কয়েকবার সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে চাঁদপাই রেঞ্জের গুলিশাখালী ক্যাম্পসংলগ্ন পয়ষট্টি ছিলা এলাকায় সুন্দরবনে আগুন লেগে পুড়ে যায় অন্তত পাঁচ একর বনভূমি। তারও আগে ২০১১ সালে ধানসাগর স্টেশনের নাংলি ক্যাম্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে সুন্দরবনের অন্তত দুই একর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল।
দফায় দফায় সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশ্ব ঐতিহ্যের এ বনভূমি সুরক্ষায় আন্দোলন সংগ্রাম হলেও সরকারের নীরব ভূমিকায় দফায় দফায় এ অগ্নিকাণ্ড থামছে না বলেই মনে করছেন অনেকে।