JNU universityআবারো আলোচনায় দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ভালো ফলাফল বা খেলাধুলায় চ্যাম্পিয়ানের জন্য নয়, আলোচনায় এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌনকর্মীদের অবাধ বিচরণ এবং শিক্ষার্থীদের মদ্যপানের জন্য। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি ২০০ পাতার নথি প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষকের তৈরি ওই রিপোর্টে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘মধুচক্রের আখড়া’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তা জমাও দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সামনে আনা হয়েছে ওই প্রতিবেদন। সেন্টার ফর ল অ্যান্ড গভর্নেন্সের অধ্যাপিকা অমিতা সিংয়ের নেতৃত্বেই তা তৈরি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেস ও হোস্টেলে যৌনকর্মীদের অবাধ যাতায়াত বলে দাবি অমিতা সিংয়ের। আর এ সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নিরাপত্তারক্ষীদেরও। তিনি বলেন, ‘হোস্টেলে মদ্যপান ও অনৈতিক কার্যকলাপে জড়ানোর জন্য হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে। হোস্টেলে গেলে যেখানে সেখানে মদের বোতল পড়ে থাকতে দেখা যায়। যৌনকর্মীদেরও যাতায়াত লেগেই রয়েছে।’
অভিযোগ করা হয়, রাত বাড়লেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে দামি গাড়ির আনাগোনা বেড়ে যায়। বহুবার হোস্টেলে তল্লাশিতে শিক্ষার্থীদের রুমে বহিরাগত যুবকদের পাওয়া গেছে। ছেলেদের ঘরে মেয়েদের বা উল্টোটাও দেখা গেছে। অথচ হোস্টেলে ছেলে বা মেয়ের একে অপরের রুমে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
এদিকে তারা আরো বড়সড় সমস্যার হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্পেশাল সেন্টার ফর সংস্কৃত স্ট্যাডিজের সহকারী অধ্যাপক হরি রাম মিশ্র।
কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে ছাত্রদের দেশবিরোধী স্লোগান দেয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে খবরের শিরোনামে আসে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। আর সম্প্রতি ওই ঘটনাতেই অভিযুক্ত কানহাইয়া কুমারকে জরিমানা ও উমর খালিদসহ তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।