ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ: ব্যাটিংয়ে শীর্ষে মুশফিক, বোলিংয়ে জুবায়ের


mushfiq and jubaer2ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের প্রথম তিন রাউন্ড শেষে ব্যাটিংয়ে শীর্ষে আছেন মুশফিকুর রহিম। আর বোলিংয়ে সবার ওপরে আছেন জুবায়ের হোসেন লিখন। এবারের ঢাকা লিগের শুরু থেকেই দারুণ খেলছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব অধিনায়ক মুশফিক। অথচ ঢাকা লিগের আগেও রানখরায় ভুগছিলেন জাতীয় দলে এই টেস্ট অধিনায়ক।
গত বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়া ১৬ ম্যাচে তিনি পঞ্চাশ বা পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলতে পারেননি একটিও। অবশ্য এর মধ্যে ওয়ানডে ছিল মাত্র ২টি। বাকিগুলো টি-টোয়েন্টি।
৫০ ওভারের ক্রিকেটে ফিরতেই হেসে ওঠে মুশফিকের ব্যাট। ঢাকা লিগে প্রথম ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে করেন ৭২। ওই ম্যাচে সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপটা মেটান পরের ম্যাচেই ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে, খেলেন ১০৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস।
ধারাবাহিকতার প্রতিচ্ছবি হয়ে দেখা দেন তৃতীয় ম্যাচেও। মঙ্গলবার লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে খেলেন ৫১ রানের আরেকটি কার্যকরী ইনিংস। অর্থাৎ টানা তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস!
ঢাকা লিগে এ পর্যন্ত তিন ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি দুটি ফিফটিতে মুশফিক করেছেন ২২৭ রান। গড় ১১৩.৫০! সমান ম্যাচে একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটিতে ৬৯.৬৬ গড়ে ২০৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের এনামুল হক বিজয়।
দুইশ’র ওপরে রান আছে আর মাত্র একজনের- শেখ জামালের মাহবুবুল করিম। তিন ম্যাচে একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটিতে তার সংগ্রহও ২০৯ রান।
তিন ম্যাচে একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটিতে ১৮৩ রান নিয়ে চারে আছেন ভিক্টোরিয়ার আল-আমিন। সমান ম্যাচে একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটিতে ১৮২ রান নিয়ে পাঁচে ক্রিকেট কোচিং স্কুলের সালমান হোসেন।
অন্যদিকে বোলিংয়ে সবার ওপরে থাকা জুবায়ের হোসেন ঢাকা লিগের গত মৌসুমে একাদশে জায়গা পেতেই হাপিত্যেশ করেছিলেন। আবাহনীর হয়ে একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র একটি ম্যাচে। এবারের ঢাকা লিগেও সেই আবাহনীর হয়েই অসাধারণ পারফর্ম করছেন জাতীয় দলের এই লেগ স্পিনার।
প্রথম ম্যাচেই কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের বিপক্ষে মাত্র ৩৪ রানে ৬ উইকেট নেন জুবায়ের। পরের ম্যাচে শেখ জামালের বিপক্ষে অবশ্য ভালো করতে পারেননি, ৩৭ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। তবে তৃতীয় ম্যাচে নিজের স্পিন বিষে নীল করেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের ব্যাটসম্যানদের।
ব্রাদার্সের বিপক্ষে তিনি ৪৪ রানের বিনিময়ে নেন ৪ উইকেট। এই ম্যাচে ব্যাট হাতেও ১০ বলে ১৯* রানের ছোট্ট ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের জয়ে অবদান রাখেন জুবায়ের। তিন ম্যাচের দুটিতেই হয়েছেন ম্যাচসেরা।
তিন ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে বোলিংয়ে শীর্ষে আছেন জুবায়ের। তার ইকোনোমি রেটও ছয়ের নিচে, ৫.৪৩। সমান ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে দুইয়ে মোহামেডানের হাবিবুর রহমান।
অবশ্য তিন ম্যাচে ৭টি করে উইকেট পেয়েছেন আরো তিনজন- ভিক্টোরিয়ার স্পিনার সোহরাওয়ার্দী শুভ, কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রূপগঞ্জের পেসার আবু হায়দার রনি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s