mamata1না নারদাকাণ্ড, না সারদাকাণ্ড, না নজিরবিহীন বাম-কংগ্রেস জোট- কোনো কিছুই আটকাতে পারল না পশ্চিমবঙ্গের ‘দিদিকে’। ভারতের বাংলাভাষী এ রাজ্যে আবারো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। সে হিসেবে টানা দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। তীব্র সমালোচনা ও শঙ্কা সব পেছনে ফেলে পশ্চিমবঙ্গে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথম মেয়াদের চেয়েও বেশি আসন এবং নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিততে চলেছে আঞ্চলিক এ দলটি।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে বিধান সভার ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ পেয়েছে ২১৪ আসন। কংগ্রেসের পেয়েছে ৪৫ আসন। বামফ্রন্টের আসন ২৮টি। এর আগে বিজেপির কোন আসন না থাকলেও এ নির্বাচনে জিতেছে ৭ আসনে। এছাড়া আসামে ১২৬, কেরালায় ১৪০, তামিলনাড়ুতে ২৩৪ এবং পুদুচেরি বিধান সভায় ৩০টি আসন রয়েছে।
কংগ্রেসের জন্য এ রাজ্যে সান্তনা এই যে, ভোটের ফলে এবং আসনে শরীক বামফ্রন্টকে পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়েছে দলটি। বিধান সভায় প্রধান বিরোধী দলের সুযোগ পাবে কংগ্রেস। আসন সংখ্যার বিবেচনায় লোকসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পায়নি প্রায় ভারতের আট দশকের ঐতিহ্যবাহী এ রাজনৈতিক দলটি।
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টানা সাড়ে তিন যুগের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে কংগ্রেসের সাবেক নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই নির্বাচনে তৃণমূল পায় ১৮৪ আসন। এবার আসন সংখ্যা বেড়েছে আরো ৩০টি।
এদিকে, প্রথমবারের মতো আসামে কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজেপি, কেরালায় ক্ষমতাসীন কংগ্রেসকে হারিয়ে এলডিএফ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তামিলনাড়ুতে জয়ললিতার নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন এআইএডিএমকের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে বিরোধী ডিএমকে দলের। অন্যদিকে কেন্দ্র শাসিত পুদুচেরিতে ফলাফলে এগিয়ে আছে কংগ্রেস শরিক ডিএমকে।