Real+atletico+01.JPGপুরো ম্যাচেই দারুণ খেলেছেন হুয়ানফ্রান। কিন্তু টাইব্রেকারে অ্যাটলেটিকোর চতুর্থ শটটি তিনি মেরে দিলেন সাইড পোস্টে। এই একটি শটেই নির্ধারিত হয়ে গেল জয়-পরাজয়। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দায়িত্ব ছিল রিয়ালের পঞ্চম শটটিকে যেকোনো মূল্যে কেবল পোস্টে ঢোকানো।বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার ‘যেকোনো মূল্যে’ নয়, দারুণভাবেই পরাভূত করলেন অ্যাটলেটিকো গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাককে। সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হলো রিয়াল মাদ্রিদের আরও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ-শিরোপা। টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে নিশ্চিত হলো রিয়ালের ইউরোপ-সেরার একাদশতম খেতাব।
আরও একবার হতাশার আগুনে অঙ্গার অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। দুবছর আগে এই রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের সমতায় ভাগ্য–বিপর্যয় ঘটেছিল অ্যাটলেটিকোর।
মিলানের সান সিরোতে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র। অতিরিক্ত সময়েও সমতা ভাঙে না। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায় ভাগ্যদেবী জিদানের দিকে মুখ তুলে তাকালেন। তাইতো তার শিষ্যরা ৫-৩ গোলে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতে নিয়েছে। এটা তাদের ক্লাব ইতিহাসের একাদশতম চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। যা আর কোনো ক্লাব এখনো জিততে পারেনি।
টাইব্রেকারে রিয়ালের হয়ে পঞ্চম কিকটি নেন রোনালদো। সেটাকে গোলে পরিণত করার মধ্য দিয়ে শিরোপা জয় নিশ্চিত করেন। জুয়ানফ্রান অ্যাটলেটিকোর হয়ে চতুর্থ পেনাল্টিটি মিস করেন। ফলে তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয়ের সুযোগ পায় রিয়াল। অবশ্য এর আগের শিরোপাটাও এই অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে জিতেছিল লস ব্লাঙ্কোসরা। রিয়ালের এই শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি খেলোয়াড় জিনেদিন জিদান। ফুটবল ইতিহাসে সপ্তম কোনো ব্যক্তি হিসেবে খেলোয়াড় থাকাকালীন ও কোচ হওয়ার পর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছেন।
শনিবার দিবাগত রাতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের ১৫ মিনিটেই এগিয়ে যায় রিয়াল। টনি ক্রুসের ফ্রি কিকে মাথা লাগান ডি বক্সের বাইরে থাকা গ্যারেথ বেল। তার মাথা ছুঁয়ে বল চলে যায় গোললাইনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রিয়াল দলপতি সার্জিও রামোসের কাছে। অ্যাটলেটিকোর গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে রামোস পা লাগিয়ে বল জালে জড়ান (১-০)। ৭৯ মিনিটে এই গোলটি শোধ দেন রোজি ব্লাঙ্কোসদের কারাসকো। যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি টাইব্রেকার পর্যন্ত গড়াতে বাধ্য করে।
অবশ্য দৃষ্টিনন্দন একটি ফাইনাল ছিল। অতিরিক্ত সময় পর্যন্তও কোনো দল কাউকে একবিন্দু ছাড় দেয়নি। কিন্তু টাইব্রেকার যতটা না শক্তিমত্তার খেলা, তার চেয়ে ঢের বেশি ভাগ্যের খেলা। সেই খেলায় দিনশেষে রিয়াল জয়ী। ফলে আরো একবার নিঃশ্বাস দূরত্বে থাকা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপার স্বাদ নেওয়া থেকে বঞ্চিত হলো অ্যাটলেটিকো।
শনিবার জিদান তার দলকে সাজান ৪-৩-৩ ফরম্যাটে। অন্যদিকে সিমিওনি তার দল সাজান ৪-৪-২ ফরম্যাটে। তবে প্রথমার্ধে রিয়াল বেশ প্রভাব বিস্তার করে খেলেছে। এ ক্ষেত্রে অ্যাটলেটিকো বেশ খানিকটা পিছিয়ে ছিল।
ডেঞ্জারম্যান খ্যাত ফার্নান্দো তোরেস, গ্রিয়েজমান ও সাউল খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। তারা খুব কমই রিয়ালের গোলরক্ষক কেইলর নাভাসকে অসুবিধায় ফেলতে পেরেছেন। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিক থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় সিমিওনির শিষ্যরা। অবশ্য রিয়ালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও করিম বেনজেমা খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে অ্যাটলেটিকো। সিমিওনি অগাস্তুর পরিবর্তে মাঠে নামান কারাসকোকে। শুরুতেই পেনাল্টি পায় অ্যাটলেটিকো। পেপে ফার্নান্দো তোরেসকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ফেলে দিলে রেফারি বাঁশি বাজান। অবশ্য পেনাল্টি কিক থেকে গোল আদায় করে নিতে ব্যর্থ হন গ্রিয়েজমান। তবে ৭৯ মিনিটে কারাসকো গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে রিয়াল বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও প্রায় সমানহারে সুযোগ মিস করেন।
টাইব্রেকারে তিন রাউন্ড ঠিক ছিল। উভয় দলই সফলভাবে তিনটি গোল করে। কিন্তু চতুর্থ রাউন্ডের শুরুতে রামোস ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ালেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই রাউন্ডের শটটি মিস করে বসেন অ্যাটলেটিকোর জুয়ানফ্রান। রিয়ালকে সুযোগ করে দেন শিরোপা জেতার। রিয়ালের মতো অভিজ্ঞ দল সেই সুযোগ আর মিস করেনি। শেষ মুহুর্তে রিয়ালের শিরোপা জয়ের কাজটি সম্পন্ন করে রোনালদো। টাইব্রেকারে নিজ শহরের ক্লাব অ্যাটলেটিকোকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে।