arrest, greftarদেশে জঙ্গি দমনে পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনি যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে, তাতে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যরাতে এই অভিযান শুরু করার পর এ পর্যন্ত অন্তত নয়শো জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি জানান, পুুলিশের কাছে সন্দেহভাজন জঙ্গি এবং সন্ত্রাসীদের যে তালিকা রয়েছে, সেই তালিকা ধরে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযানে পুলিশের সাথে অংশ নিচ্ছে র‍্যাব ও বিজিবি।
দেশে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলায় বহু মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনার পটভূমিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক মাত্র গতকালই (বৃহস্পতিবার) এই অভিযানের ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এই যৌথ অভিযানের বিস্তারিত চুড়ান্ত করা হয়।
পুলিশের আইজি জানান, দেশে সম্প্রতি যেসব সহিংসতা ঘটছে তার সাথে `হোমগ্রোন` বা দেশীয় জঙ্গিরা জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, “তাই এদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যাপকভাবে দেশব্যাপী একটি অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
পুলিশ প্রধান বলেন, রমজান মাসের কারণে আপাতত এই অভিযানের মেয়াদ হবে এক সপ্তাহ। এক সপ্তাহ পর মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না তা বিবেচনা করা হবে।
জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এতদিন রুটিন অভিযান চালানোর কথা বলে আসছিল আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী।
এখন ঘোষণা দিয়ে ব্যাপকভাবে অভিযান চালানোর বিষয় এসেছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রীকে হত্যার ঘটনার পর দেখা গেছে, গত কয়েকদিনে আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সাতজন নিহত হয়েছে। এই নিহতদের চারজনই সন্দেহভাজন জঙ্গি বলে জানাচ্ছে পুলিশ।
চট্টগ্রামে পুলিশের একজন কর্মকর্তার স্ত্রীর হত্যার প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ এই অভিযান শুরু করছে কি না, এই প্রশ্নে জবাবে শহিদুল হক জানান, একজন নির্দোষ ও ধর্মপ্রাণ নারীকে হত্যার ওই ঘটনা ছাড়াও নাটোর, ঝিনাইদহ্‌ এবং ঢাকার কলাবাগানে উগ্রপন্থীদের হাতে খুনের ঘটনা ঘটেছে। তার পরই এই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই অভিযানে অপরাধী এবং জঙ্গিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিউনিটি পুলিশেরও সাহায্য নেয়া হবে। -বিবিসি।