orlando-nightclub20160612202417.jpgযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো শহরের নাইট ক্লাবে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিকদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিবৃতিকে লজ্জাজনক অভিহিত করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট ওবামা হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি প্রচারিত এক বিবৃতিতে অরল্যান্ডোর বন্দুক হামলাকে ‘একটি সন্ত্রাসী ও ঘৃণ্য ঘটনা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা শুধু অরল্যান্ডোতে নয়, আমেরিকার যেকোনো শহরে ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘটতে পারত। অরল্যান্ডোর নাগরিকদের সঙ্গে আমরা আছি। সব সময়ে তাদের পাশে থাকব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকান হিসেবে আমাদের পরিচয় ও মূল্যবোধ এ ধরনের কোনো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পরিবর্তিত হবে না।’
বন্দুকধারী ওমর মতিনের সহজে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ওবামা বলেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো সময়ে মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে আমাদের স্কুল, উপাসনালয়, সিনেমা হল বা নাইট ক্লাবে হামলা করতে পারে।’ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘কী ধরনের দেশ আমরা চাই, সে সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে।’
এই বক্তব্য দেওয়ার সময় ওবামাকে বিষণ্ন ও ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। সিবিএস টিভি জানিয়েছে, নিজের শাসনামলে ওবামা এ নিয়ে ২০ বার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে বক্তব্য দিলেন।
প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ওবামার কথায় সুর মিলিয়ে এটিকে একটি সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আসা সব ধরনের হুমকি মোকাবিলা করতে দ্বিগুণ শক্তি ব্যবহার করবেন বলে জানান। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষেও মতামত দেন। তিনি বলেন, ‘কোনো সন্ত্রাসীর হাতে যাতে আগ্নেয়াস্ত্র যেতে না পারে, আমাদের তা নিশ্চিত করতে হবে।’
ডেমোক্রেটিক পার্টির আরেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দেন। তবে সব তথ্য না জানা পর্যন্ত এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা, না কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাণ্ড, এ বিষয়ে মত দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলায় একজন মুসলমান জড়িত—এ কথা উল্লেখ করেছেন জোরালোভাবে। মুসলিমদের ব্যাপারে এর আগে সাবধান করার জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে দেওয়া বার্তায় তিনি নিজেই নিজেকে অভিনন্দিত করেন। ‘র‍্যাডিকাল ইসলাম’ কথাটি ব্যবহার না করায় ওবামার বিবৃতিকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, শুধু এই কারণেই তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
মুসলমানদের কথা উল্লেখ না করায় ট্রাম্প হিলারিরও সমালোচনা করেন। তিনি হিলারিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানান।
আরকানসাসের সাবেক গভর্নর মাইক হাকাবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় ইসলামি জঙ্গিবাদের উল্লেখ না করায় ওবামার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘তাঁকে প্রেসিডেন্ট ওবামা না বলে আমাদের “ভুলোমনা ওবামা” বলে ডাকা উচিত।’
ফ্লোরিডা থেকে নির্বাচিত সিনেটর ও সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মার্কো রুবিও এক বার্তায় উল্লেখ করেন, ইসলাম ধর্ম সমকামীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পেছনে যে সেই মনোভাব কাজ করেছে, তা অস্বীকার করা যায় না।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো শহরের পালস ক্লাবে হামলাকারী মার্কিন নাগরিক । ওমর মতিন (২৯) নামে ওই হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। রোববার (১২ জুন) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, নিহত ওমর ফ্লোরিডার এসটি লুইস কাউন্টিতে বাস করতেন। নিহত ওমরের মা আফগান নাগরিক ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে ব্রিফ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
এর আগে শনিবার (১১ জুন) স্থানীয় সময় দিনগত গভীর রাতে ক্লাবটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে অন্তত ৩২০ জন নাগরিক ছিলেন। এদের মধ্যে অন্তত ২০ জন নিহত ও ৪৩ জন আহত হন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অরল্যান্ডো পুলিশের প্রধান জন মিনার বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, হামলার সময় ওমর বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছলে তার সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ওমর।
পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে আহতদের চিকিৎসায় রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ হামলার ঘটনায় কোনো জঙ্গি সংগঠন জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে দেশটির পুলিশ।