Ronaldobb.jpgদিনটা দারুণ আনন্দ আর গর্বের ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। দিনটা ছিল দেশের জার্সি গায়ে অনন্য এক রেকর্ড ছোঁয়ার। পর্তুগালের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় হিসেবে রোনালদো এই দিনেই বসেছেন লুইস ফিগোর পাশে। কিন্তু আনন্দের দিনটা রূপ নিল হতাশায়। রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়ার দিনেই ইউরোয় হোঁচট পর্তুগালের। ইউরোপ-সেরার লড়াইয়ে নবাগত আইসল্যান্ডের সঙ্গে জিততে পারেনি তারা। ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচে অনেক চেষ্টাতেও গোল পাননি রোনালদো।
ইউরোর মতো বড় টুর্নামেন্টে এই প্রথম অংশগ্রহণের সুযোগ পেল আইসল্যান্ড। অন্যদিকে পর্তুগাল ইউরোপের একটি পরীক্ষিত শক্তিশালী দল। কিন্তু আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মুখোমুখিতে পয়েন্ট ভাগ করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
ফ্রান্সে মঙ্গলবার রাতে দেশের জার্সিতে খেলা ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে পারতেন রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা সাবেক তারকা লুইস ফিগোর রেকর্ড স্পর্শ করেছেন রিয়াল তারকা। দুজনই দেশের হয়ে ১২৭টি করে ম্যাচ খেলেছেন। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর ৫ মিনিটেই হেডে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু সেটি প্রতিপক্ষের জালে পাঠাতে পারেননি তিনি।
আইসল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন নানি। ৩০ মিনিটে ডান দিক থেকে মিডফিল্ডার আন্দ্রে গোমেসের বাড়ানো বল প্রথম শটেই জালে জড়ান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ফরোয়ার্ড নানি। ১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় পর্তুগিজরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে গোলটি শোধ করে লড়াই জমিয়ে তোলে আইসল্যান্ড। ডি-বক্সের ডান দিক থেকে মিডফিল্ডার গুডমুন্ডসনের উঁচু করে বাড়ানো বল বক্সের বাইরে পেয়ে দারুণ ভলিতে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বিরকির বজারসন।
ম্যাচের ৮৪ মিনিটে রোনালদোর জোরালো শট রুখে দেন আইসল্যান্ড গোলরক্ষক হানেস। শেষপর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ ব্যবধানের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দু’দলকে।
আইসল্যান্ড কোচ হেইমির হালগ্রিমসনের কাছে এই ড্র জয়ের সমানই। তিনি নিজেদের দলের ‘রক্ষণ-সাফল্যে’ রীতিমতো গর্বিতই, ‘ম্যাচে আমাদের রক্ষণ দারুণ হয়েছে। আমরা খুব গুছিয়ে রক্ষণকাজটা করতে পেরেছি। পুরো ম্যাচে দলের সবাই খুব খেটে খেলেছে। দু-একটি পরিস্থিতি বাদে পুরো দল খুব প্রত্যয়ী ছিল। এই ড্র সত্যিই আমাদের কাছে জয়ের সমানই।’ ছবি: রয়টার্স।