durga kimi 68 year student

একবার না পারিলে শতবার দেখার চেষ্টাই করছেন দুর্গা কামি নামের এই ৬৮ বছরের বৃদ্ধ। এই বয়সে তিনি নেপালের শ্রী কালা ভৈরব মাধ্যমিক উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। ছোট ছোট শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি পড়েন, টিফিনের সময় একসঙ্গেই খেলেন। নিজের জীবনের নানা দুঃখ ও কষ্টের কথা কিছুটা সময় ভুলে থাকতেই স্কুলে যাওয়া শুরু করেন তিনি। দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নিবন্ধনও হয়ে গেছে তাঁর। এবার পালা পরীক্ষা দেওয়ার।
স্কুলে ছোট ছোট শিক্ষার্থীর সঙ্গে নেপালের ৬৮ বছর বয়সী দুর্গা কামি। ছয় সন্তানের বাবা এই দুর্গার আট নাতি-নাতনি। এই বয়সেও তিনি সপ্তাহে ছয় দিনই স্কুলে যান। স্কুল শেষে বাড়িতে ফিরে নিজেই রান্না করে খান দুর্গা কামি। স্কুলের পোশাকে দশম শ্রেণির দুর্গাকে দেখতে বেশ ভালো লাগেছে।এই বয়সে একজন মানুষ কোন প্রতিষ্ঠানের পোষাক পরিধান করে আছে আসলেই অন্যরকম।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ২৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে শাংজা জেলার পাহাড়ের নিচে এই ঘরই দুর্গার বাড়ি, যার ছাদ চুঁয়ে বৃষ্টির জল ঢুকে পড়ে ঘরে। দুর্গা কামির বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। তাই রাতে টর্চলাইট জ্বেলে স্কুলের পড়া তৈরি করেন তিনি।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের কাছে পড়া বুঝে নেন দুর্গা। শ্রেণিকক্ষে বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গেও দুর্গার সম্পর্ক খুব ভালো।সহপাঠী ১৪ বছর বয়সী সাগর থাপার সঙ্গে গল্প করতে করতে প্রতিদিন স্কুলে যান দুর্গা কামি। টিফিনের সময় স্কুলের মাঠে সহপাঠীদের সঙ্গে এই বয়সেও ভলিবল খেলেন দুর্গা কামি। সহপাঠীরাও তাঁকে পেয়ে বেশ আনন্দিত হয়।
নিজের দুঃখ ভুলতেই স্কুলে যান’ দুর্গা। তাই তো হাতে লাঠি নিয়ে পাহাড়ি এই পথ পেরিয়ে স্কুল যেতে একটুও ক্লান্তি বোধ করেন না তিনি।

durga kimi kok
স্কুল শেষে বাড়িতে ফিরে রান্না করছেন দুর্গা কামি।