tahir2.jpgআমলা-তাহির নৈপুণ্যে আরেকটি বোনাস পয়েন্টের জয় পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের কাছে ধরাশায়ীই হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৪৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১২ ওভার বাকি থাকতেই ২০৪ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।
ইমরান তাহির ক্যারিয়ার সেরা বোলিংটা করলেন বুধবার, ৯ ওভারে ৪৫ রান খরচায় তুলে নিলেন মূল্যবান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৭টি উইকেট। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৮ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি। ইমরান তাহির কাল সেন্ট কিটসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৫ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৭ উইকেট। ওয়ানডে ম্যাচে ৭ কিংবা এর বেশি উইকেট তুলে নেওয়া মাত্র দশম বোলার হয়ে গেলেন তাহির। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে এটিই সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি করেছিলেন কাগিসো রাবাদা, বাংলাদেশের বিপক্ষে গত বছর।
একদিনের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম বোলার হিসেবে তাহির দখলে নিয়েছেন ৭ উইকেট, পাশাপাশি প্রোটিয়াদের হয়ে সবচেয়ে কম ম্যাচে ছুঁয়েছেন শততম উইকেটের মাইলফক। তার স্পিন বিষে কুপোকাত ক্যারিবীয়রা। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে ষষ্ঠ ম্যাচে তাহিরের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে জেসন হোল্ডারের দলের বিপক্ষে ১৩৯ রানের ব্যবধানে বড় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় ফের শীর্ষে উঠে আসল প্রোটিয়ারা। ৪ ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। সমান দুটি করে ম্যাচে জিতেছে ও হেরেছে এবি ডি ভিলিয়ার্সের দল। সমসংখ্যক ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান দ্বিতীয়। আর স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৩৪৩ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৩৮ ওভারে ২০৪ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় হোল্ডারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালোই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ওপেনিং জুটিতে ৬৯ রান আসে তাদের। ক্যারিবীয়দের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ইমরান তাহির। সাজঘরে ফেরান আন্দ্রে ফ্লেচারকে (২১)। অপর ওপেনার জনসন চার্লস ফিফটির কাছে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন। ব্যক্তিগত ৪৯ রানের মাথায় শামসির বলে ডু প্লেসিসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। এরপর ড্যারেন ব্রাভোকে (১১) প্যাভিলিয়নের পথ দেখান ওয়েন পারনেল। দিনেশ রামদিনও ১১ রানের বেশি করতে পারেননি। ক্যারিবীয় এই উইকেটরক্ষক শিকার শামসির। বাকি সময়টাতে ছিল তাহির শো। তিনি একে একে সাজঘরে ফেরান মারলন স্যামুয়েলস (২৪), জেসন হোল্ডার (১৯), কার্লোস ব্রাফেট (০), কাইরন পোলার্ড (২০), সুলেমান বেন (০) ও জেরমে টেলরকে (১৬)। সুনীল নারিন ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তাহিরের ৭ উইকেটের পাশাপাশি  শামসি নেন ২টি উইকেট। আর ১টি উইকেট নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন ওয়েন পারনেল।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার হাশিম আমলা। পোলার্ডের শিকার হওয়ার আগে ৯৯ বলে ১৩টি চারের মারে ১১০ রানের গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস খেলেছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা প্রোটিয়া এই ক্রিকেটার। আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ৭১ রান করে জেরমে টেলরের বলে সরাসরি বোল্ড হন।
অলরাউন্ডার ক্রিস মরিসকে ওয়ানডাউনে নামিয়ে হয়তো জুয়া খেলতে চেয়েছিল প্রোটিয়া। ২৬ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন মরিস। অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যক্তিগত ইনিংস থামে ২৭ রানে। ফাফ ডু প্লেসিস ৭১ রানে ও জেপি ডুমিনি ১০ রানের অপরাজিত থেকে ক্রিজ ছাড়েন।
ওয়েস্ট  ইন্ডিজের পক্ষে সেরা বোলার কাইরন পোলার্ড। পকেটে পুরেছেন দুটি উইকেট। কার্লোস ব্রাফেট ও জেরমে টেলরের ঝুলিতে জমা পড়েছে একটি করে উইকেট। আর প্রোটিয়াদের হয়ে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ইমরান তাহির।
রোববার (১৯ জুন) বার্বাডোজে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবেন আমলা-ডি ভিলিয়ার্সরা। দু’দিন পর (২১ জুন) অজিদের বিপক্ষে মাঠে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দু’টি ম্যাচই বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে।