প্রথমবারের মতো মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে জিকা প্রতিষেধক


jika antebaotik.jpegবিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে মানুষের ওপর প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন থেকে এই পরীক্ষা চালানোর অনুমোদন পেয়েছে ইনোভিও নামের এক ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ইনোভিও ৪০ জন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী পূর্ণবয়স্ক মানুষের ওপর এই প্রতিষেধক প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ জানায়, গবেষণা করে এই ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা, মাত্রা ও শরীরের ওপর এর প্রভাব নির্ণয় করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের গবেষণাকে কাজের ‘প্রথম ধাপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই ভ্যাকসিনটির নিরাপত্তা, সঠিক মাত্রা ও প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও কয়েক ধাপে গবেষণা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান বিজ্ঞানীরা। তারা আরও জানান এর আগে গবেষণার অংশ হিসেবে ছোট ও বড় নানা প্রানীর ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে এই ভ্যাকসিন।
জন হপকিন্সের ইন্টারন্যাশনাল হেলথের প্রফেসর অ্যানা ডারবিন বলেন, ‘প্রথম ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাটি সবসময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়। এফডিএ (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) এটি পর্যবেক্ষণ করেই অনুমোদন দিয়েছে। নিশ্চয়ই আরও অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানোর জন্য আবেদন করেছে। এ থেকে বোঝা যায়, জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের প্রক্রিয়া গতিশীল রয়েছে।’
ইনোভিও যে ভ্যাকসিনটি আবিষ্কার করেছে তাকে সাধারণত ‘ডিএনএ ভ্যাকসিন’ বলা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের ওপর ডিএনএ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার অনুমোদন নেই। তবে ইনোভিওকে যে ভ্যাকসিন দিয়ে পরীক্ষা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তা ডিএনএ ভ্যাকসিন কিনা সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি এফডিএ।
গবেষকরা জিকা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা শুরু করেন ২০১৬ সালের শুরুতেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র ব্রাজিলেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয় প্রায় দেড় হাজার মানুষ। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েরা অস্বাভাবিক ছোট মাথার নবজাতকের জন্ম দেওয়া শুরু করলে জিকা ভাইরাসের প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ চরমে পৌঁছায়।
অক্সফোর্ড জার্নাল ‘ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজজেস’ এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মত ডিএনএ ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয় ১৯৯০ এর দশকে। এইচআইভি ও ফ্লুয়ের জন্য ডিএনএ ভ্যাকসিনের ওপর জোর দেওয়া হয়। তত্ত্ব অনুসারে ডিএনএ ভ্যাকসিন সহজ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন হওয়ার কথা। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৮ পর্যন্ত মাত্র ৪টি ডিএনএ ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত হামের প্রতিষেধক তার মধ্যে একটি।
প্রসঙ্গত, জিকা একটি মশাবাহিত ভাইরাস যার আক্রমণে নানা রকম জন্মগত ত্রুটি সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষত গর্ভবতী নারীদের জন্য এই ভাইরাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ঠিকভাবে গঠিত হতে পারে না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s