ডিপিএলের ‘অঘোষিত’ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী


abahani.jpegপ্রাইম ব্যাংকের শুভাগত উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তামিম-সাকিবের কোলাকুলি। দুই তরুণ মোসাদ্দেক ও শান্তর উল্লাস ছড়িয়ে যায় পুরো স্টেডিয়ামে। আবাহনী সমর্থকদের ‘আবাহনী-আবাহনী’ চিৎকারে মিরপুর স্টেডিয়াম মেতে উঠে আনন্দে। অভিষেক মিত্র, মোসাদ্দেক ও তাসকিন স্ট্যাম্প তুলে নেওয়ার প্রতিযোগীতায় লিপ্ত। শেষ পর্যন্ত একটি করে স্মৃতি রাখতে সক্ষম তারা তিনজনই। এ এক সুখী পরিবারের খণ্ডচিত্র।
বুধবার আকাশী-নীল শিবিরের উল্লাস ছিল দেখার মত। এমন দিনের জন্যে পাক্কা চার বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। ২০১০-১১ মৌসুমে আবাহনী সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছিল। তিন মৌসুম পর আবারও উড়ল আবাহনীর পতাকা। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পায়নি আবাহনী।
তারাই যে এবারের আসরের চ্যাম্পিয়ন সেই ঘোষণা পাওয়ার জন্যে আরও দুদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে!
বুধবার প্রাইম ব্যাংককে ১১৫ রানে হারিয়ে সুপার লিগে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল আবাহনী। আবাহনী ও প্রাইম দোলেশ্বরের একটি করে ম্যাচ স্থগিত আছে। দুই দলের পয়েন্টের পার্থক্য দুই। আবাহনীর ২২ ও দোলেশ্বরের ২০। স্থগিত হওয়া ম্যাচ আগামী ২৪ জুন মিরপুরে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সে ম্যাচ হারলেও আবাহনীর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বেশি। সর্বাধিক জয়, মুখোমুখি লড়াইয়ে আবাহনী-দোলেশ্বর সমানে সমান থাকলেও রান রেটে এগিয়ে থাকবে আবাহনী।
তবে প্রাইম দোলেশ্বরকে শিরোপা জিততে হলে প্রায় অসম্ভব টার্গেট নিয়ে মাঠে নামতে হবে। একটি সমীকরণ তুলে ধরা যাক, আবাহনী যদি আগে ব্যাটিং করে ২০০ রান করে তাহলে সেই রান ১৫-১৬ ওভারে করতে হবে প্রাইম দোলেশ্বরকে। অর্থ্যাৎ টি-টোয়েন্টির গতিতে ব্যাটিং করতে হবে দোলেশ্বরকে। যা কিনা ঢাকা লিগে প্রায় ‘অসম্ভব’। এ ‘অসম্ভব’ লড়াইয়ে আবাহনী এগিয়ে। তাই বুধবার অঘোষিত চ্যাম্পিয়ন তারাই। সেই আনন্দ প্রতিটি আবাহনী সমর্থকদের ছুঁয়ে গেছে।
নিজেদের দিনে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই এগিয়ে আবাহনী। ৭ উইকেটে ৩১৬ রানের বড় পুঁজি পায় আবাহনী। ব্যাট হাতে দারুণ সময় কাটানো তামিম ইকবাল ১৪২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে বড় পুঁজির ভিত এনে দেন। তামিমের লিগের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পাশাপাশি মোসাদ্দেকও ব্যাটিং কারিশমা দেখান। ৭৮ রান করেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান।
জবাবে প্রাইম ব্যাংক গুটিয়ে যায় মাত্র ২০১ রানে। বল হাতে সাকলায়েন সজীব একাই নেন ৭ উইকেট। ৯.২ ওভারে ৫৮ রানে নেন ৭ উইকেট। তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে আবাহনীর জয় পেতে একটুও বেগ পেতে হয়নি। দুবার হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরী করেছিলেন সাকলায়েন। একবার শুভাগত হোম ও আরেকবার মনির হোসেন তাকে হ্যাটট্রিক বঞ্চিত করেন। তার ৭ উইকেটের সাথে ২ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। তাদের দাপটের মুখে মাথা তুলে দাঁড়ান ওপেনার মেহেদী মারুফ (৬৯) ও শুভাগত হোম (৫১)। দুই হাফসেঞ্চুরির ইনিংস প্রাইম ব্যাংকের পরাজয়ের ব্যবধান এড়ায় মাত্র।
ম্যাচসেরার দৌড়ে তামিম ইকবালের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাকলায়েন সজীব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তামিমের ১৪২ রানের ইনিংসই ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেয়।

abahani.jpeg

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s