আবারও কোপার ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম চিলি


chili copa-.jpgএক বছর পর কোপা আমেরিকার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বছর ঘুরলেও ফাইনালে সেই পুরোনো দুই দলই।  গত বছর কোপা আমেরিকার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা-চিলি। ১২০ মিনিটের জমজমাট লড়াই শেষে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায়। সেখানে গিয়ে চিলির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মেসি-হিগুয়েনদের। তাই এবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চিলিকে হারিয়ে ফাইনালের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ এসেছে আর্জেন্টিনার সামনে। সেমিফাইনালের ম্যাচে ১০ জনের কলম্বিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে চিলি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) কো্পার শতবর্ষী আসরের শেষ চারের দ্বিতীয় ম্যাচটিতে মুখোমুখি হয় কলম্বিয়া ও চিলি। লিওনিসের সোলজার ফিল্ডে খেলতে নামে তারা। কিন্তু ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে খেলা ঝড় ও বৃষ্টির কারণে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পরে শুরু করা হয়।
এদিন ম্যাচের শুরুতেই দুই গোল দিয়ে কলম্বিয়ানদের কোনঠাসা করে দেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। আর খেলার দ্বিতীয়ার্ধে কলম্বিয়ান ফুটবলার আলবার্টো সানচেজ দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা।
খেলার ৭ মিনিটেই লিড নেয় চিলি। চার্লস আরানগুইজের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় দলটি। আর চার মিনিট পরেই লিড দ্বিগুন করেন হোসে ফুয়েনজালিদা। পরে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় চিলি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কলম্বিয়া। শুরুতেই আক্রমণে যায় তারা। তবে খেলার ৫৭ মিনিটে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখেন আলবার্টো সানচেজ। ফলে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। সেই সঙ্গে ম্যাচে আর ফেরা হয়নি কলম্বিয়ানদের।
খেলার বাকি সময় আর কোন গোল না হলে শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ে পিজ্জির শিষ্যরা।
২০১৫ কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টিতে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছিলো চিলি। আর এবার দলটির সামনে থাকছে টানা দ্বিতীয় শিরোপার হাতছানি। অন্যদিকে উরুগুয়ের সঙ্গে যৌথভাবে রেকর্ড ১৫বারের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ থাকছে আলবেসেলিস্তাদের। চলতি টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই চিলিকে হারিয়েছিলো জেরার্ডো মার্টিনোর শিষ্যরা। সর্বশেষ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিলো মেসি-হিগুইনরা।
সানচেসের অন্যরকম সেঞ্চুরি
sunchesকোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে চিলি। এই ম্যাচে অন্যরকম এক সেঞ্চুরি করেছেন অ্যালেক্সিস সানচেস। বৃহস্পতিবার সকালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার সঙ্গেই চিলির জাতীয় দলের হয়ে ১০০তম ম্যাচ খেলার অনন্য এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
২০১৫ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল চিলি। গোটা টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলেছিলেন তিনি। যদিও এবারের আসরে ঠিক ততটা জ্বলে উঠতে পারেননি, তবে তার সতীর্থরা দারুণ খেলছেন। ফাইনালের আগে ছন্দে ফিরেছেন সানজেস নিজেও।
আগামী সোমবার কোপার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্বরূপে ফিরতে চাইবেন সাজচেস। নিজের সেরাটা নিংড়ে দিয়ে এবারও দলকে শিরোপা এনে দিতে চাইবেন তিনি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার বাধা পেরিয়ে চিলি সেটা বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না? সময়ই বলে দেবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ২৭ এপ্রিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চিলির জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় সানচেসের। দেশের জার্সিতে এ পর্যন্ত ৩৪ গোল করেছেন তিনি। চিলির ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইভান জামোরানোর (৩৪) রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। আর একটি মাত্র গোল করতে পারলেই রেকর্ডটি এককভাবে নিজের দখলে নেবেন বার্সেলোনার সাবেক এই স্ট্রাইকার।

Advertisements

About Emani

I am a professional Graphic designers create visual concepts, by hand or using computer software, to communicate ideas that inspire, inform, or captivate consumers. I can develop overall layout and production design for advertisements, brochures, magazines, and corporate reports.
This entry was posted in Cricket (ক্রিকেট). Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s