মাছ ডাঙায়ও থাকতে শিখেছে


Fish-.jpgমাছ কখনো কখনো লাফ দিয়ে জলাশয়ের বাইরে যায়। কয়েক মুহূর্ত শুকনো জায়গায় কাটিয়ে ফিরে যায় পানিতে। এটাকে লোকে বিরল ঘটনা বলে। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, এমন মাছের সংখ্যা নতুন প্রজাতিগুলোর মধ্যে কম হলেও প্রায়ই এদের দেখা মেলে।
ক্রমবিকাশের ইতিহাস ঘেঁটে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ডাঙার পরিবেশের সঙ্গে মাছের খাপ খাইয়ে নেওয়ার ঘটনা বিরল নয়। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টেরি ওর্ড বলেন, এখনকার যুগের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে উভচর প্রবণতা ক্রমাগত বিকশিত হয়েছে। আর ডাঙায় বিচরণের অভ্যাস গড়াটা মাছের জন্য আগে যতটা কঠিন বলে মনে হতো, এখন ততটা মনে হচ্ছে না।
ওর্ড ও তাঁর সহকর্মী জর্জিনা কুক বিভিন্ন প্রজাতির মাছের এই ধারাবাহিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেন। কী কারণে প্রাণীটি জলাশয় থেকে ডাঙায় অবস্থানের ব্যাপারে আগ্রহী হলো, তার বাস্তুসংস্থানজনিত এবং বিবর্তনমূলক কারণগুলোও তাঁরা অনুসন্ধান করেন। তাঁরা মাছের ৩৩টি গোত্র শনাক্ত করেন, যার মধ্যে অন্তত একটি প্রজাতির মধ্যে উভচর প্রবণতা রয়েছে। এ গবেষণা প্রতিবেদন ইভল্যুশন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
ওর্ড বলেন, লাফিয়ে ডাঙায় যাওয়ার ব্যাপারটা বিভিন্ন পরিবেশে বসবাসকারী মাছের মধ্যেই দেখা যায়, মিঠাপানির মাছ থেকে শুরু করে মহাসাগর পর্যন্ত। এদের খাদ্যাভ্যাসেও বৈচিত্র্য আছে। কিছু কিছু মাছ ডাঙায় স্বল্প সময় থাকে। আর মাডস্কিপারের মতো কিছু
মাছ ডাঙায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা এবং কখনো কখনো কয়েক দিন পর্যন্ত সময় কাটায়। আর কিছু কিছু মাছ শক্তিশালী ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে ডাঙায় আসার পর ভাটার সময়টায় ভেজা পাথরের মধ্যে থাকতে পারে। তবে সব মাছই ডাঙামুখী নয়। কারণ, শুকনো জায়গায় শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখা, চলাফেরা ও প্রজনন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

Fish-.jpg

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s