EUযুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে  বন্ধন ছেঁড়ার পক্ষে রায় এসেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ভোটের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগেই জয় বিচ্ছেদপন্থিরাই পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর চলে আসে। বিবিসি বলেছে, ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট পড়েছে ৫২ শতাংশ, আর থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছেন সাড়ে ৪ কোটি ভোটারের ৪৮ শতাংশ।
এই গণভোটের ফলাফল প্রকাশের পর পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্যুইটারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শুলজ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমরা এই ফলাফলকে সম্মান জানাই। আমরা পরিষ্কার হলাম যুক্তরাজ্য তার নিজের পথে যাবে।”
তিনি আরো বলেন, “এখন আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করার সময়। ডেভিড ক্যামেরনের নিজের দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে, ইইউ-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। আপনারা দেখছেন বাজারে স্টার্লিং-এর কী অবস্থা। আমি চাইনা একই বিষয় ইউরোর ক্ষেত্রেও ঘটুক।”
নেদারল্যান্ডসের ফ্রিডম পার্টির নেতা গ্রিট ওয়াইল্ডার বলেন, “হুররে ব্রিটিশ! এখন আমাদের পালা। এখন সময় ডাচ গণভোটের।”
ফ্রান্সের ডানপন্থি ফ্রন্টের (এফএন) নেতা ম্যারিন লি পেন বলেন, “স্বাধীনতার জয়! অনেক বছর ধরেই আমি যেমনটা দাবি করে এসেছি, এখন ফ্রান্সেও একই গণভোটের প্রয়োজন এবং যেমনটা প্রয়োজন ইইউভুক্ত সব দেশেই।”
ইতালির অভিবাসনবিরোধী নর্দান লিগের নেতা মাত্তেও সালভিনি উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “হুররে মুক্ত নাগরিক হওয়ার সাহস! হৃদয়, মগজ এবং গৌরব পরাজিত করল মিথ্যা, হুমকি এবং ব্ল্যাকমেইলকে পরাজিত করেছে।”
তিনি আরো বলেন, “ধন্যবাদ ইউকে, এবার আমাদের পালা।”
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেন, “ইইউ সদস্যদের অগ্রাধিকার এবং ইউরোপের নয়া ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আলোচনা করা প্রয়োজন।”
আইরিশ সরকার জানিয়েছে, “এই ফলাফল আয়ারল্যান্ড, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলাফল বিষয়ে সরকার সকালে বৈঠক করবে। ওই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশে বিবৃতি দেবেন।”
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টেইনমেয়ারের কথায় হতাশাই ঝরে পড়েছে। তিনি বলেন, “ব্রিটেনের যে সংবাদ পেলাম তা সত্যিই গুরুতর। ইউরোপ এবং ব্রিটেনের জন্য দিনটি শোকের বলেই মনে হচ্ছে।”
জার্মানির ভাইস-চ্যান্সেলর সিগমার গ্যাব্রিয়েল সরাসরি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান, “ড্যাম! ইউরোপের জন্য একটি বাজে দিন।”
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইটোল্ড ওয়াসজিকক্সি বলেন, “ব্রেক্সিট ব্রিটেন এবং ইউরোপের জন্য খারাপ খবর। ইইউ ধারণা পরিবর্তন প্রয়োজন, এ তারই নিদর্শন।”

Advertisements