মশা’র সঙ্গে লড়বে মাইক্রোসফট


Microsoft+is+testing+a+new+mosquito.jpgযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস উপকূলে জিকা ভাইরাস আর অন্যান্য রোগ বহনকারী মশার সঙ্গে লড়াইয়ে কাজ করছে নতুন এক খেলোয়াড়। এই খেলোয়াড় স্বাস্থ্যসেবায় পরিচিত নাম না হলেও, কম্পিউটার সফটওয়্যার আর ভিডিও গেইমের জন্য সুপরিচিত, বলা হচ্ছে সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফটের কথা। টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টি মাইক্রোসফটের নতুন এই ফাঁদটি পরীক্ষা করছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, ফাঁদটি তাদের সংক্রামক রোগের সঙ্গে লড়াইয়ের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। চলতি বছর জুলাইয়ের শুরুর দিকে ফাঁদগুলোর প্রয়োগ করা শুরু হবে। আশা করা হচ্ছে মশাবাহিত রোগ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে ফাঁদগুলো আর রোগগুলো কখন শুরু হয় সে সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যাবে।
“এটা মশা নিয়ন্ত্রণ খাতকে এমন ভাবে এগিয়ে দেবে যা আগে কখনও এদেশে করা হয়নি,” হ্যারিস কাউন্টি’র জনস্বাস্থ্য নির্বাহী পরিচালক উমাইর শাহ বলেন। “এর যা করা উচিত বলে আমরা ভাবছি, তা করতে পারলে এটা একটা আসল ‘গেইম চেঞ্জার’ হতে যাচ্ছে।”
হ্যারিস কাউন্টি তাদের ঐ এলাকায় আগে থেকেই সচল কয়েকশ’ ফাঁদের পাশাপাশি নতুন ১০টি ফাঁদের পরীক্ষা করবে। এর আগ পর্যন্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানতে পারেননি ঠিক কোন সময়ে একটি রোগবাহী মশা ফাঁদে ধরা পড়ে।
মাইক্রোসফট রিসার্চ-এ বানানো ফাঁদগুলো মশার নির্দিষ্ট জাত চিহ্নিত করবে আর মশা ফাঁদে প্রবেশ করা মাত্রই নথিবদ্ধ করবে। জিকা বা অন্য রোগ বহনকারী মশা ফাঁদে পা দেওয়া মাত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্যারিস কাউন্টি পাবলিক হেলথ-এর অফিসে নোটিশ পৌঁছে যাবে।
“এটাই মূল চাবি,” শাহ বলেন। “এটা আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করছে।”
২০১৫ সালে ইবোলার প্রকোপের সময় মাইক্রোসফটের গবেষকরা এই নতুন ফাঁদ তৈরি শুরু করেছিলেন। প্রকল্পটির নেতৃত্বদানকারী মাইক্রোসফটের ইথান জ্যাকসনের মতে, ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ে আসা কোনো সংক্রামক রোগের বিস্তার বন্ধ করতে পারা যায় কিনা দেখার জন্য তারা সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চেয়েছিল।
ফাঁদটি তিন পায়ার উপড় বসানো ১ ফুট লম্বা টিনের তৈরি, এতে ধরে রাখার জন্য ৬৪টি ঘর আছে। ফাঁদ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয়, যা মশাকে আকর্ষণ করে বলে জানে সবাই।
মশা ফাঁদে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে অবলোহিত আলো তার উপড় পড়বে। আলোর ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে মাইক্রোসফটের গবেষকরা মশার জাত চিহ্নিত করবে পারবে। মশা ফাঁদে প্রবেশ করলে, একটি স্প্রিং লোডেড দরজা স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। যদি অবলোহিত আলো মশাকে গবেষণার মশাগুলো হিসেবে চিহ্নিত না করে তাহলে দরজা খোলা থাকবে যাতে মশা আবার বাইরে চলে যেতে পারে।
ফাঁদের দরজাটি আরেকটি মশা প্রবেশ না করা পর্যন্ত খোলাই থাকবে। ৩,৬০০ মশার জাতের মধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু মশা জিকা, ডেঙ্গু জ্বর বা ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস বহন করে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
শুরুতেই ফাঁদগুলো মশার জাত চিহ্নিত করার মতো ‘স্মার্ট’ হবে না। মাইক্রোসফটকে এই কাজের জন্য জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপর নির্ভর করতে হবে। ফাঁদগুলোকে মশার জাত নির্ধারণের জন্য এদেরকে কোন জাত কেমন দেখতে হয় তা শেখানো হবে।
সময়, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা আর মশার প্রবেশের সময়ের আলোর স্তরের মতো অন্যান্য তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্যগুলো মাইক্রোসফট আর হ্যারিস কাউন্টিকে এই পরিবেশে মশার আচরণ সম্পর্কে শেখাবে।
জ্যাকসন জানান, ফাঁদগুলোর মশা চিহ্নিত করার ক্ষমতা ল্যাব পরীক্ষাগুলো নিশ্চিত করেছে, আর এটা যে মাঠেও কাজ করে তার সত্যতা হ্যারিস কাউন্টি প্রকাশ করতে পারবে।
গবেষকরা ফাঁদগুলোকে বসানোর সবচেয়ে ভালো জায়গা খোঁজার জন্য ড্রোন ব্যবহার করার কথা ভাবছে।
অ্যারিয়েল ছবি তোলার জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্যাকসন। জলাবদ্ধতা, গাছপালা আর কাঠামোর জন্য কম্পিউটার ছবি বিশ্লেষণ করবে, যাতে মশার বেশি ঘনত্বপূর্ণ জায়গাগুলো বের করা যায়।
ড্রোন নিয়মিত এলাকা ঘুরে দেখবে আর কোনো পরিবর্তন হলে মশা শনাক্ত করার জন্য তা চিহ্নিত করবে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সমস্যাপূর্ণ স্থানগুলোতে ফাদ বসাতে পারে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s