champion ciliকোপা আমেরিকার শতবর্ষীয় আসরে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চিলি। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এবারও টাইব্রেকারে জেরার্দো মার্টিনোর শিষ্যদের ধরাশায়ী করেছে। ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে ওঠা হলো না আর্জেন্টিনার।
এ যেন ঠিক সেই ২০১৫ সালের কোপার সান্তিয়াগোর ফাইনালটিই। এক বছর পর আবারও সেই চিলির বিপক্ষেই হারের শিকার হতে হলো আর্জেন্টিনাকে। মেসির দলের হয়ে শিরোপা অর্জনের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।
দলের অন্যতম তারকা লিওনেল মেসির ব্যর্থতায় আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে পরাজিত হয়েছে চিলির বিপক্ষে।নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও গোলের দেখা পায়নি দুই দল। ফলে, ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
সোমবার (২৭ জুন) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও চিলি। বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় শিরোপা লড়াইয়ে মাঠে নামে দু’দলের ফুটবলাররা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে, অতিরিক্ত ৩০ মিনিট লড়তে হয় দুই ফাইনালিস্টকে। তাতেও গোল না হলে গতবারের ফাইনালের মতোই ম্যাচটি গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।
ভিদালের নেওয়া প্রথম শটটি রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক রোমেরো। এগিয়ে যেতে প্রথম শট নিতে আসেন আর্জেন্টিনার দলপতি মেসি। তবে, তার নেওয়া দ্রুতগতির শটটি গোলবারের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। দ্বিতীয় শটে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন মাশচেরানো আর চিলির হয়ে গোল করেন ক্যাসিও। তৃতীয় শটে আরানগুয়েজ গোলের দেখা পান। আর্জেন্টিনাকে সঠিক পথেই রাখেন আগুয়েরো। নিজেদের চতুর্থ শটে চিলির হয়ে গোল করেন এমানুয়েল। আর নিজেদের চতুর্থ শট থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লুকাস বিগলিয়া। তার শটটি রুখে দেন চিলির গোলরক্ষক ব্রাভো। ফলে, এগিয়ে থেকে পঞ্চম শটটি নেন চিলির আন্দ্রেস সিলভা। আর সেই শটে গোল করে দলকে টানা দ্বিতীয়বার কোপার চ্যাম্পিয়ন্স করেন।
এর আগে ম্যাচের ১৬ ও ২৮ মিনিটে দু’বার হলুদ কার্ড দেখায় মাঠের বাইরে যেতে হয় চিলির মার্সেলো ডিয়াজকে। আর ম্যাচের ৪৩ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনার মার্কোস রোহোকে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়।
দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে চাওয়া আর্জেন্টিনা ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনাল, কোপা আমেরিকার গতবারের ফাইনালের মতো এবারের ফাইনালের প্রথমার্ধে কোনো গোল আদায় করতে পারেনি। ম্যাচের ২৩ মিনিটের মাথায় ‍হিগুয়েনের দারুণ একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। চিলির গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভোকে ফাঁকি দিয়ে তার নেওয়া শটটি গোলবারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।
ম্যাচের ৪০ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টাইন দলপতি মেসি। প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চিলি। ৫৭ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখেন অ্যালেক্সিজ সানচেজ, ভারগাস, ভিদালরা।
১৯৯৩ সালে সবশেষ কোপা শিরোপা জেতা আর্জেন্টিনাকে প্রথমার্ধে হতাশ করে ১৯৫৫, ১৯৫৬, ১৯৭৯ ও ১৯৮৭ সালে ফাইনালে ওঠা চিলি। প্রথম ৪৫ মিনিট খালি হাতেই ফিরতে হয় ১৪ বারের কোপা চ্যাম্পিয়নদের।
প্রথমার্ধে ৪-৩-৩ ফরমেশনে আর্জেন্টাইন কোচ জেরার্ডো মার্টিনো প্রথম একাদশে মাঠে নামান সার্জিও রোমেরো, মারকাডো, অটামেন্ডি, মোরি, লুকাস বিগলিয়া, মাশচেরানো, মার্কোস রোহো, এভার বেনেগা, লিওনেল মেসি, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া এবং হিগুয়েনকে। অপরদিকে, একই ফরমেশনে চিলির হয়ে প্রথমার্ধে মাঠে নামেন ক্লদিও ব্রাভো, ইসলা, মেডেল, জারা, বিউসেজোর, ভিদাল, ডিয়াজ, আরানগুয়েজ, ফুয়েনজালিডা, সানচেজ এবং ভারগাস।
বিরতির পর ম্যাচের ৫০ ও ৬৭ মিনিটে দুটি জোরালো আক্রমণ করে চিলি। তবে, দু’বারই আর্জেন্টাইন ডিফেন্সে বাধা পেয়ে ফিরতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে ডি মারিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মাতিয়াস ক্রানেভিতের। আর ৭০ মিনিটে হিগুয়েনের জায়গায় খেলতে নামেন সার্জিও আগুয়েরো।
৭৯ মিনিটের মাথায় প্রায় নিজেদের অর্ধ থেকে বল পান চিলির তারকা ভারগাস। আর্জেন্টাইন ডি-বক্স ফাঁকা পেয়ে বামপায়ের জোরালো শটও নেন তিনি। তবে, প্রস্তুত ছিলেন গোলরক্ষক রোমেরো। ঝাঁপিয়ে পড়ে দলকে গোলের হাত থেকে বাঁচানোর সাথে সাথে ভারগাসের চেষ্টা নষ্ট করে দেন তিনি।
৮৪ মিনিটের মাথায় স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮২ হাজারের বেশি দর্শককে অবাক করে দেন ইংলিশ প্রিমিয়ারের সেরা স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরো। ম্যানসিটির আর্জেন্টাইন এই তারকা চিলির ডি-বক্সে বল পেয়ে যে শটটি নেন সেটি গোলবারের অনেক বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। আগুয়েরোর সামনে শুধুই বার্সেলোনার চিলিয়ান গোলরক্ষক ব্রাভো ছিলেন।
৯০ মিনিটে চিলিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সানচেজ। কাউন্টার অ্যাটাকে চিলির ডি-বক্সে প্রবেশ করে মেসির জোরালো শট বাইরে চলে যায়।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় কোনো গোল না হলে ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
ম্যাচের ৯৮তম মিনিটে চিলির আরেকটি সুযোগ নষ্ট করে দেন দুর্দান্ত কিছু সেভ করা আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক রোমেরো। ভারগাসের হেড থেকে ছুটে যাওয়া বল ঝাঁপিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন রোমেরো। পরের মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক থেকে হেড করেন আগুয়েরো। ক্লদিও ব্রাভো পরাস্ত হলেও চিলির গোলবারের উপরের অংশে লেগে বল বাইরে চলে যায়।
অতিরিক্ত সময়েও কোনো গোল না হলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। আর তাতে, ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টানা দ্বিতীয়বার আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে শিরোপা জিতে নেয় চিলি।