gomutro.jpgসিংহের জন্য গির অরণ্যের নামডাক আছে ঠিকই কিন্তু এখানকার গরুদের দাম আক্ষরিক অর্থেই, সোনায় কষা যায়। টানা ৪ বছরের বিপুল গবেষণার পর জুনাগড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, গির এলাকার গরুর মূত্রে সোনা পাওয়া গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে ৪০০টি গরুর মূত্র পরীক্ষা করা হয়েছে, ১ লিটার মূত্রে মিলেছে ৩ থেকে ১০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত সোনার গুঁড়ো, যাকে বলে গোল্ড সল্ট, যা জলে মিশে যায় সহজেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান বি এ গোলাকিয়া জানিয়েছেন, গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি- মাস স্পেকটোমেট্রি বা জিসি- এমএস পদ্ধতিতে গোমূত্রের নমুনা বিশ্লেষণ করেন তারা।
এতদিন শুধু প্রাচীন গ্রন্থ ও আয়ুর্বেদেই গোমূত্রে সোনা মেলার উল্লেখ ছিল। কিন্তু তার কোনো বিশদ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ না থাকায় তারা গির এলাকার গরুদের মূত্র পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। ৪০০ গরুর মূত্র পরীক্ষা করে সত্যি সত্যিই পুরাণে উল্লিখিত সোনার সন্ধান মিলেছে।
বৈজ্ঞানিকরা জানাচ্ছেন, এই সোনা নিষ্কাশন করে রাসায়নিক পদ্ধতিতে তাকে কঠিন রূপ দেয়া সম্ভব। উট, মহিষ, ভেড়া ও ছাগলের মূত্র পরীক্ষাও করেছেন তারা কিন্তু তাতে সোনার খোঁজ মেলেনি। তা ছাড়া গির এলাকার গরুদের মূত্রে ৫,১০০ রকম মিশ্র পদার্থ মিলেছে, যেগুলির মধ্যে ৩৮৮টি চিকিৎসাগতভাবে অমূল্য, অর্থাৎ, এগুলির ব্যবহারে দুরারোগ্য অসুখ সারানো সম্ভব। জুনাগড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিকরা এবার অন্যান্য ৩৯রকম দিশি গরুর মূত্র পরীক্ষা করবেন।

gomutro.jpg