সেমিতে উঠতে মুখোমুখি পর্তুগাল বনাম পোল্যান্ড


ronaldo-levanoski.jpgজমজমাট ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হচ্ছে আজ থেকে। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও পোল্যান্ড। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বড় কোনো শিরোপা জেতা হয়নি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। সেই ২০০৪ সালে ইউরোতে রানার্স আপ হয়েছিল তার দল। গত আসরে হয়েছিল তৃতীয়। এবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে মাঠে নামছেন পর্তুগীজ উইঙ্গার। কিন্তু সেমিতে উঠতে তার সামনে বাধা লেভানদোস্কির পোল্যান্ড। প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে মাঠে নামছে পোলিশরা। বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ডের চোখ দলকে আরো এগিয়ে নেয়া। একই লক্ষ নিয়ে বৃহস্পতিবার মাঠে নামছেন তারা। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে তাদের ম্যাচটি।
মূলত লড়াইটা হবে রবার্ট লেভানডফস্কি ও ক্রিষ্টিয়ানো রোনালদোর মধ্যে। দু’জনই দুই দলের প্রধান ভরসা। একজন বায়ার্ন মিউনিখের তুখর খেলোয়াড় অন্যদিকে রিয়াল মার্দিদের প্রাণভোমরা রোনালদোর যখন মাঠে নামবে দুই দলের সামনে থাকবে ইতিহাস হাতছানির প্রতিচ্ছবি। যদিও আজকের ম্যাচে পর্তুগালকে এগিয়ে রাখছেন সবাই। গত মৌসুমে ৩০ গোল করে বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন রোনালদো। কিন্তু ইউরোতে এখন পর্যন্ত কোন গোলই করতে পারেননি রবার্ট লেভানডফস্কি। অন্যদিকে ৩১ বছর বয়সী রোনালদোর কখনও বড় শিরোপা জেতা হয়নি। হয়তো এটাই শেষ ইউরো তার। আর একটি গোল করলেই ইউরোতে সর্বোচ্চ গোল করার মিশেল প্লাতিনির রেকর্ড স্পর্শ করবেন। এর মধ্যে চার ইউরোতে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন। ইউরোতে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার। হাঙ্গেরির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে জোড়া গোল করে দেশকে বাঁচিয়েছিলেন। বিদায়ের মুখ থেকে নিয়ে এসেছিলেন শেষ ষোলোতে। কিন্তু রোনালদোর তার নামের সুবিচার করেননি। এখনো দর্শকরা তার শৈল্পিক ফুটবল দেখার অপেক্ষায়। তবে মুখিয়ে থাকবে পোলান্ডের দিকেও।
মেসির অবসরের পর রোনালদো প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছেন। সঙ্গত কারণে সবার দৃষ্টি থাকবে তার উপর। তাই দলকে শ্রেষ্ঠত্বের আসীনে বসাতে চেষ্টায় ঘাটতি রাখবেন না তিনি। তবে তার দল গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচেও জিততে পারেনি। সেরা তৃতীয় হয়ে খেলেছে শেষ ষোলোতে। সেখানে অতিরিক্ত সময়ের গোলে মাত্র ১-০ ব্যবধানে জিতেছে। গ্রুপ পর্বে মাত্র চার গোল করেছে তারা। এর মধ্যে তিন গোলই এসেছে হাঙ্গেরির বিপক্ষে।
পর্তুগালের দৈন্য দশায় হতাশ নন দলটির তারকা নানি। তিনি বিশ্বাস করেন, পোল্যান্ডের বিপক্ষে তারা এক উপভোগ্য ম্যাচ উপহার দিবেন।
পর্তুগালের বর্তমান কোচ সান্তোস ২০১০ সালে থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গ্রিসের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখনকার দলের সঙ্গে রোনালদোদের তুলনা করতে চান না নানি। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে চারটি ম্যাচে খেলেছি এবং পর্তুগালকে গ্রিসের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন না।’
পর্তুগালকে সমীহ করছে পোল্যান্ডের গোলরক্ষক স্কেজনি। তিনি বলেন, ‘পোল্যান্ড দলে একজন রোনালদো থাকলে ভালো হত। এমনকি তিনি সেরা ফর্মে না থাকলেও। কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে, পর্তুগাল মানে শুধু রোনালদো নয়। তারা একটি শক্তিশালী দল।’
এদিকে পোল্যান্ডের বড় শক্তি লেভানদোস্কি। কিন্তু টুর্নামেন্টে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো গোল করতে পারেননি। তার তবে দল গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচেও হারেনি। শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে ড্র করেছিল। নক আউট পর্বে টাই ব্রেকারে হারিয়েছিল সুইজারল্যান্ডকে। তাই এই ম্যাচে রোনালদোকে আটকাতে পারলে পরের রাউন্ডে খেলার স্বপ্ন দেখতে পারে দলটি।
পর্তুগাল ও পোল্যান্ড সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৮ সালের ইউরোর বাছাই পর্বে। সেবার প্রথম লেগে নিজেদের মাটিতে ২-১ গোলে জিতেছিল পোলিশরা। আর দ্বিতীয় লেগে ২-২ গোলে ড্র করেছিল তারা।
বড় কোনো টুর্নামেন্টে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দল দুটি। আর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম দেখা হতে যাচ্ছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ১-০ গোলে জিতেছিল পোল্যান্ড। অন্যদিকে ২০০২ বিশ্বকাপে ৪-০ গোলে জিতেছিল পর্তুগাল।
কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের অধীনে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ১১ ম্যাচে অপরাজিত আছে পর্তুগাল। আটটি ম্যাচে তারা জিতেছিল, আর ড্র করেছিল তিনটিতে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s