garman-itali.jpgঅবশেষে নবম চেষ্টায় এসে ইতালি-বাধা পেরোতে পারল জার্মানি। বিশ্বকাপ হোক বা ইউরো, প্রতিপক্ষ ইতালি হলেই কেন যেন একটু দমে যেত জার্মানি। এর আগের ৮ বারের দেখায় ইতালি-বাধা পেরোতে পারেনি জার্মানি। অবশেষে সেই ধারাটা ভাঙল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কাল ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে ৬-৫ গোলে ইতালিকে হারিয়েছে জোয়াকিম লোর দল। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয়েছে ১-১ গোলের ড্রতে।
সেমিফাইনালে জার্মানির প্রতিপক্ষ ফ্রান্স-আইসল্যান্ডের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালটির বিজয়ী দল।
ইউরোর চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরের সেমিফাইনালে ইতালির কাছে গিয়েছিল জার্মানি। এবার তাই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিল জার্মানরা। তার চেয়েও বড় কথা, এর আগে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ইতালিকে হারাতে পারেনি তারা। হেরেছে অনেক বার। এবার ইতিহাস পাল্টে দিল জার্মানরা। সব হারের প্রতিশোধ নিয়ে নিল ফ্রান্সে চলমান ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে।
শনিবার রাতে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে ইতালিকে ৬-৫ ব্যবধানে ইতালিকে পরাজিত করেছে জার্মানি। আর তাতে ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে কালো ব্যাজ পরে খেলতে নামা ইতালির খেলোয়াড়দের কাঁদিয়ে ইউরোর সেমিফাইনালের খেলা নিশ্চিত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
টাইব্রেকারে ইতালির হয়ে লক্ষ্যভেদ করেন লরেঞ্জো ইনসিনিয়ে ও আন্দ্রেয়া বারজাগলি। ব্যর্থ হন সিমোনে জাজা, গ্রাজিয়ানো পেল্লে ও লিওনার্দো বোনুচ্চি। আর জার্মানির পক্ষে টাইব্রেকারে ইতালির জাল কাঁপান টনি ক্রুস ও ইউলিয়ান ড্রাক্সলার। ব্যর্থ হন টমান মুলার, মেসুত ওজিল ও বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার।
দ্বিতীয় দফায় তিন শটে গোল করেন ইতালির এমানুয়েল জাক্কেরিনি, মার্কো পারলো মাত্তিয়া দে শিলিও। কিন্তু মাত্তেও দারমেইনের শট ফিরিয়ে দেন ন্যুয়ার। অপরদিকে টানা চার শটে গোল করেন ম্যাট হামেলস, জশুয়া কিমিচ, জেরোম বোয়াটেং ও ইয়াোনাস হেক্টর।
এর আগে ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে লিড পায় জার্মানি। মারিও গোমেজ বল পাস দেন হেক্টরকে। তার শট ইতালির একজনের গায়ে লাগলে বল পেয়ে যান ওজিল। অসাধারণ দক্ষতায় লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
এরপর ইতালি ম্যাচে সমতায় ফেরে ৭৮তম মিনিটে। ডি-বক্সে বোয়াটেংয়ের হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় ইতালি। দুর্দান্ত এক শটে বোনুচ্চি পরাস্ত করেন জার্মান গোলরক্ষক ন্যুয়ারকে। পেশাদার ফুটবলে এটাই বোনুচ্চির প্রথম পেনাল্টি। ইতালির প্রথম ডিফেন্ডার হিসেবে বড় কোনো টুর্নামেন্টে গোল করলেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময় এবং অতিরিক্ত সময়েও গোল পায়নি কোনো দল। তাই খেলা গড়ায় টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায়।