ঈদযাত্রা : মন্ত্রীরা কথায় এক কাজে আরেক


eid-jatra.jpgএবারের ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের দুর্ভোগ অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে অনেক কম হবে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আগেই জানানো হচ্ছিল। এবছর রাস্তাঘাটের অবস্থা অনেক ভালো জানিয়ে কোনো কোনো মন্ত্রী বলছিলেন, মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষ এবার কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি যাবে।
সরকারের দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টদের কথায় সাধারণ মানুষ কিছুটা আশার আলো দেখলেও শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের চোখে-মুখে অন্ধকারই লেগে রইলো। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে গিয়ে চরম ভোগান্তি আর হয়রানির সহ্য করতে হচ্ছে ঈদযাত্রীদের। এ যেন মন্ত্রীদের কথা আর কাজে যে ফারাক তারই বাস্তব চিত্র।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষ অতিরিক্ত ভাড়া দেয়াসহ নানাভাবে প্রতারণা হয়রানির শিকার হচ্ছে। গণপরিবহন, লঞ্চ, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, ট্যাক্সিক্যাব থেকে শুরু করে সকল যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যেতে হচ্ছে রাজধানীবাসীদের। কোনোভাবেই এই ঝাক্কি ঝামেলা ছাড়া কেউ পার পাচ্ছে না।
রাজধানীর সকল লোকাল সার্ভিস বাসগুলো সিটিং সার্ভিসের নামে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫০ টাকা আদায় করে নিচ্ছে। সদরঘাটসহ দেশের নদীবন্দর ও নৌ ঘাটসমূহে যাত্রী পারাপারে ৫০ পয়সার টোল ইজারাদাররা ৮-১০ টাকা হারে আদায় করছে। ৩-৪ টাকার পণ্য ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এছাড়াও সারা দেশের আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে টিকিট ইস্যু করা হচ্ছে। রাজধানীর অটোরিকশাগুলো ৫০ টাকার ভাড়ার যাত্রাপথে ৫০০-৬০০ টাকা হারে ভাড়া হাঁকাছে। প্রাইভেটকার ও ট্যাক্সিসমূহ দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে।
সবমিলে পদে পদে ঠকবাজী, হয়রানি ও অস্বাভাবিক ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা। দেশের সকল পথে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন প্রায় ১০ গুণ বেশি যাত্রী যাতায়াত করছে। এতে গণপরিবহনের চাহিদার বিপরীতে বিশাল ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
সোমবার (০৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এসব অভিযোগ করেছে। তারা ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগের শিকার যাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়ে একটি বিবৃতিতে দিয়েছে। বিবৃতিতে সারা দেশের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিডটিএ, বিআরটিএ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে যাত্রী সাধারণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ঈদে সৃষ্ট এসব দুর্ভোগ লাঘবে সময়োচিত পদক্ষেপ না নেয়ায় যাত্রীরা পদে পদে ঠকবাজী ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।
সংগঠনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রিকশায় গন্তব্যভেদে ঈদ বকশিসের নামে ১০-১০০ টাকা পর্যন্ত, টেম্পু হিউম্যান হলারে যাত্রাপথে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত, বাস-মিনিবাসে ৫০-৮০০ টাকা পর্যন্ত, লঞ্চে ১০০-১৫০০ টাকা পর্যন্ত, সিএনজি অটোরিকশা ও টেক্সিক্যাবে ৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায়ের চিত্র বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছ,  দেশের সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশ পথে এবারের ঈদে ঢাকা থেকে ৯২ লাখ, চট্টগ্রাম মহানগর থেকে ৩১ লাখ, সিলেট থেকে ৮ লাখ, খুলনা থেকে ১২ লাখ, রাজশাহী থেকে ৯ লাখ, বরিশাল থেকে ৩ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৩ লাখ যাত্রী ওমরা পালনসহ বিদেশে ঈদ ভ্রমণ করছেন।
এছাড়াও ঈদকে ঘিরে দেশের এক জেলা থেকে অপর জেলায় যাতায়াত করছে আরো অন্তত ৪ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে সহজে যেন রিটার্ন টিকিট পায়- তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s