Ronaldo-BG.jpgপ্রথম সুযোগটা পেয়েছিলেন ১২ বছর আগে, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বয়স তখন ছিল ১৯। এক যুগ পর এই ৩১ বছর বয়সে এসে দ্বিতীয় সুযোগ পাচ্ছেন সি-আর সেভেন। কে জানে, এটাই হয়তো তাঁর বড় কিছু জেতার শেষ সুযোগ! ফ্রান্সের সঙ্গে ইউরোর ফাইনালে আজ এটাকেই রোনালদোর সবচেযয় বড় অনুপ্রেরণা মনে করছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা।
২০০৪ ইউরোর ফাইনালে গ্রিসের কাছে ঘরের মাঠে স্বপ্নভঙ্গের স্মৃতিটা হয়তো এখনো ভুলতে পারেননি। তখন ছিলেন ১৯ বছর বয়সী এক উদীয়মান তারকা। সময়ের পরিক্রমায় এখন তিনি বিশ্বসেরাদেরই একজন। এক যুগ পর আরেকটি শিরোপা হাতছাড়া করার চিন্তাই করতে চান না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালকে প্রথম বড় কোনো ট্রফি এনে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তিনবারের ফিফা বর্ষসেরা।
ইউসেবিও-লুইস ফিগোদের মতো স্বদেশী কিংবদন্তিরা যেটা পারেননি তাই করে দেখানোর দ্বারপ্রান্তে রোনালদো। পারবেন তো পর্তুগিজদের আক্ষেপ ঘোঁচাতে? এ যে হবে ঐতিহাসিক শিরোপা।
ইউরোর শিরোপা লড়াইয়ে স্বাগতিক ফ্রান্সকে ফেভারিটই ভাবছেন স্বয়ং রোনালদো নিজেই। কিন্তু সিআর সেভেন এর বিশ্বাস, পর্তুগালই জয়ী হবে। দেশের হয়ে শিরোপা জেতার মিশনে সম্ভবত এটিই তার শেষ সুযোগ!
রোববার (১০ জুলাই) ফ্রান্সের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে। গ্যারেথ বেলের ওয়েলসকে ২-০ গোলে পর্তুগাল ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে একই ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পা রাখে ফ্রান্স।
উয়েফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, ‘এটার মানে অনেক কিছুই দাঁড়ায়। এমন কিছু যা আমার সব সময়ের স্বপ্ন। ন্যাশনাল টিমের হয়ে কিছু জিততে চাই। ক্লাব ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সবকিছুই জিতেছি। পর্তুগিজ টিমের হয়ে কিছু জিততে পারাটা হবে বিরাট অর্জন।’
‘আমি মনে করি এটা সম্ভব। সতীর্থ এবং গোটা দেশের ভাবনাটাও তাই। আমাদের ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে কারণ আমার বিশ্বাস, রোববারের ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্তুগাল প্রথমবারের মতো বড় কোনো ট্রফি জিতবে।’-যোগ করেন ৩১ বছর বয়সী রোনালদো।
ফাইনাল সামনে রেখে রোনালদোর চোখে, ফ্রান্স ফেভারিট হতে পারে। কিন্তু লিসবনে ২০০৪ সালে তিনি শিখেছেন এটা কতটা কঠিন, হোম কন্ডিশনের সুবিধা সব সময় জয়ের নিশ্চয়তা এনে দেবে না, ‘আমাদের চেয়ে ফ্রান্স খানিকটা ফেভারিট, কিন্তু পর্তুগালের জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’