Preaching Authentic Islam in Banglaবাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পিস টিভির পরিচালক ও খ্যাতনামা ইসলামী চিন্তাবিদ ডা. জাকির নায়েক বিরুদ্ধে ‘জঙ্গিবাদে উৎসাহ’ যোগানোর অভিযোগ ওঠার পর তার পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রবিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসনে আমুর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে দুই দফা বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভা কমিটির এই বিশেষ বৈঠক হয়।
পরে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলবেন বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।
দুবাই থেকে সম্প্রচার হওয়া পিস টিভি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছেও ব্যাপক জনপ্রিয়। বাংলাভাষায় ইসলামী অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে থাকে পিস টিভি বাংলা। পিস টিভির সুবাদে জাকির নায়েক মুসলিম বিশ্বে ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তার অধিকারী।
সারাবিশ্বে পিস টিভির ২০ কোটির মত দর্শক রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাকির নায়েক।
মন্ত্রিসভা কমিটির বৈশষ বৈঠকে আরো বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে জুমার বয়ান ও খুতবা মনিটরিং করা হবে, দেশের বিভিন্নস্থানে যেসব ওয়াজ মাহফিল হয় তাও মনিটরিংয়ের আওতায় আসবে। বিভিন্ন ভিআইপি এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা রেস্টুরেস্ট ও স্কুল কলেজ উচ্ছেদ করা হবে। এছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সব রকম নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
জাকির নায়েক পরিচালিত মুম্বাইভিত্তিক ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিষ্ঠান হলো এই পিস টিভি। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে। মূলত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুদানে এটি পরিচালিত হয়।
গত ১ জুলাই গুলশানে ভয়াবহতম জঙ্গি হামলায় সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে অন্তত দুইজন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জাকির নায়েকের মত ইসলামি বক্তাদের নিয়মিত অনুসরণ করতেন ব খবর প্রকাশিত হয়েছে। তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতের কয়েকজন তরুণ আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে জাকির নায়েক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে শনিবার এক ভিডিও বার্তায় জাকির নায়েক বলেছিলেন, ‘জঙ্গিবাদ গ্রহণের জন্য আমার বক্তব্য অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে বলে বাংলাদেশের কোনো কর্মকর্তা এমন অভিযোগ করেননি।’
ওই ভিডিও বার্তায় তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ব জুড়ে আমার কয়েক কোটি ভক্ত আছে। বাংলাদেশেরও অর্ধেকের বেশি মানুষ আমার ভক্ত। কিন্তু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নিরীহ মানুষকে হত্যায় আমি উস্কানি দিচ্ছি এমন মন্তব্য করা নিশ্চিতভাবেই শয়তানের প্ররোচনার মত’।
শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, জাকির নায়েক বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয়। তদন্ত ছাড়া এমন একজন জনপ্রিয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
তিনি আরো বলেছিলেন, এখন পর্যন্ত আমরা গুলশান হামলায় ডা. জাকির নায়েকের কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাইনি। তবে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জাকির নায়েকের বক্তব্য, আর্থিক সংযোগ খতিয়ে দেখেছে।
রবিবারের বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
এ ছাড়া পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বৈঠকে অংশ নেন।
মর্মাহত নন
আরবি ভাষাভাষীদের বাইরে ইসলাম প্রচারকারীদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত হলেন জাকির নায়েক। নিজের প্রতিষ্ঠিত পিস টিভিতে তিনি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে যে আলোচনা করেন তা ব্যাপক জনপ্রিয়।
ভারতের মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া জাকির আবদুল করিম নায়েক চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রিধারী। ৪৭ বছর বয়সী এই বক্তা ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট।
ভারত ও বাংলাদেশে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়। মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবে তিনি সাদরে গৃহীত। ইসলামের সেবার জন্য সৌদি বাদশা সালমান গত বছর তাকে নিজ হাতে বাদশা ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত করেছেন।
আধুনিক ইসলামের অন্যতম প্রচারক মনে করা হয় তাকে।
অন্যান্য আলেমদের মত বেশভূষার পরিবর্তে তিনি পশ্চিমা পোশাক পোশাক পরে ইংরেজিতে ওয়াজ করেন।
জাকির নায়েকের ওয়াজ শুনে ইসলামিক স্টেটের মত উগ্র সংগঠনের দিকে ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ ওঠার পর পবিত্র মক্কা নগরী থেকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি আইএসকে অনৈসলামিক বা ‘ইসলামবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন।
‘ইসলামের নাম ব্যবহার করে আমরা ইসলামের নিন্দা করছি… ইরাক সিরিয়ার ইসলামিক স্টেট ইসলামবিরোধী, যারা নিরপরাধ বিদেশিকে হত্যা করছে। ইসলামের দুশমনরা এ নাম (আইএস) দিয়েছে।’
সাক্ষাৎকারে জাকির নায়েক জানান, ফেসবুকে তার অনুসারি ১ কোটি ৪০ লাখ। উর্দু, বাংলা, চীনাসহ বিভিন্ন ভাষায় প্রায় ২০ কোটি লোক পিস টিভি দেখে থাকেন।
‘আমার অনুসারিদের বড় অংশই বাংলাদেশি। বাংলাদেশে প্রবীণ রাজনীতিক, সমাজসেবক, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীসহ দেশটির ৯০ ভাগ মানুষ আমায় চেনেন। (দেশটির) ৫০ ভাগ লোক আমার ভক্ত। হামলাকারীরা আমাকে চিনলে আমি কী মর্মাহত হবো? না।’