Senara14জার্মানির অ্যাঞ্জেলিক কেরবারকে হারিয়ে উইম্বলডনের শিরোপা জিতেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। নিজের ২২তম গ্র্যান্ড স্লাম জিততে সেরেনা উইলিয়ামস সময় নিয়েছেন মাত্র ৮১ মিনিট। যদিও প্রথম সেট জিততে সেরেনা সময় নিয়েছিলেন প্রায় ৫৫ মিনিট। এরপর আর কেরবার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি।
সর্বকালের সেরা অস্ট্রেলিয়ান মার্গারেট কোর্টের ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড ভাঙাটাও সেরেনার জন্য এখন সময়ের ব্যাপার! এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ও ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ না হলে ছুঁয়ে ফেলতেন সেটিও।
স্টেফি গ্রাফের স্বদেশী কেরবারের কাছে হেরে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা হাতছাড়া করেছিলেন সেরেনা। উইম্বলডনে এসে আবারো তার মুখোমুখি হন মার্কিন টেনিস আইকন। তবে এবার আর ভক্তদের হতাশ করেননি। সরাসরি সেটের জয়ে এই ইভেন্টে সপ্তম ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন ৩৪ বছর বয়সী এ টেনিস ব্যক্তিত্ব।
প্রথম সেটে দু’জনের মধ্যে ভালোই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। ৭-৫ গেমের কষ্টার্জিত জয়ই পান সেরেনা। দ্বিতীয় সেটটি হয় অনেকটা একপেশে। ৬-৩ গেমে জিতে শিরোপা উল্লাসে মাতেন ২২ বারের গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী। ম্যাচ শেষে কেরবার হাসিমুখেই স্বীকার করে নেন, ট্রফিটি সেরেনারই প্রাপ্য।
ঠিক এক বছর আগে এই উইম্বলডনেই যখন শিরোপা জেতেন সেরেনা উইলিয়ামস, তাঁর বয়স ছিল ৩৩ বছর ২৮৯ দিন। ওই শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়েই সেরেনা মেয়েদের টেনিসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড গড়েছিলেন। আর গতকাল যখন সেই অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সেন্টার কোর্টে আবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন, বয়সটাকে ছাপিয়ে সামনে চলে এসেছে আমেরিকান টেনিস তারকার গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা সংখ্যা ২২।
উন্মুক্ত যুগের টেনিসে এটাই সর্বোচ্চ সাফল্য। সেরেনার মতো ২২টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন আরও একজন—স্টেফি গ্রাফ। সময়ের সীমারেখা তুলে নিলে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ডটি মার্গারেট কোর্টের। অস্ট্রেলিয়ান এই টেনিস গ্রেটের নামের পাশে ২৪টি শিরোপা, যার ১৩টি তিনি জিতেছিলেন টেনিসে উন্মুক্ত যুগ শুরুর আগেই। স্টেফিকে ছাড়িয়ে তাই এখন সেরেনার লক্ষ্য কোর্ট।
সেরেনার বিপক্ষে বাজি ধরার লোক কমই পাওয়া যাবে। বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোর্টে যে দিনে দিনে তিনি আরও উজ্জ্বল! শুরুর দিকের চেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সেরেনার সাফল্যের হার অনেক বেশি। ১৯৯৫ সালে পেশাদার সার্কিটে পা রেখে প্রথম ১৪ বছরে জিতেছিলেন ১২টি গ্র্যান্ড স্লাম। পরের ১০টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন মাত্র পাঁচ বছরে! বয়স বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্যারিয়ারের রেখাচিত্রটা যখন সবার নিম্নমুখী হয়, সেখানে পঁয়ত্রিশ ছুঁই ছুঁই বয়সেও সেরেনার ক্যারিয়ার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী! আগামী সেপ্টেম্বরেই পঁয়ত্রিশে পা রাখবেন সেরেনা।
১৯৯৯ সালে স্টেফি গ্রাফ তাঁর শেষ গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতেন ৩০ বছর বয়সে। ওই বছরই টেনিসকে বিদায় বলেছিলেন স্টেফি। ২২তম শিরোপাটি জেতার আগে তিনি টানা পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লামে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেরা পারফরম্যান্স ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। আর সেরেনা? সর্বশেষ উইম্বলডন জেতার আগে তিনটি গ্র্যান্ড স্লামে শিরোপার মুখ দেখেননি। তবে পারফরম্যান্স একেবারে খারাপ ছিল না। ইউএস ওপেনে খেলেছেন সেমিফাইনালে। অস্ট্রেলিয়ান ও ফ্রেঞ্চ ওপেনে ফাইনালে। টেনিস ছাড়ার সময় স্টেফির র‍্যাঙ্কিং ছিল তিন। অন্যদিকে সেরেনা এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নাম্বার ওয়ান।
আসলে সেরেনার যোগ্য উত্তরসূরি ভাবা হয়েছিল যাঁদের, সেই আনা ইভানোভিচ, ক্যারোলিন ওজনিয়াকিরা তো সেরেনার ছায়ায় ঢাকা পড়ে আছেন! মধ্যত্রিশের পেত্রা কেভিতোভা, ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কারাও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি। গারবিনিয়ে মুগুরুজা কিংবা অ্যাঞ্জেলিক কারবার গ্র্যান্ড স্লাম জিতে চমক দেখালেও তাঁদের পারফরম্যান্সে নেই ধারাবাহিকতা। আর উদীয়মান ইউজিনি বুশার, স্লোন স্টিভেনসরা তো দিনকে দিন হাঁটছেন পেছনের দিকে!
এই বয়সেও বিশ্ব টেনিসের ওপর সেরেনার ছড়ি ঘোরানোর পেছনে অবশ্য তাঁর হার না মানা মানসিকতাও একটা কারণ। পথটা কঠিন হলেও দমে যান না। ২০১২ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনে ভার্জিনি রাজ্জানোর কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়ার পর অনেকে তাঁর শেষ দেখে ফেলেছিলেন। তার আগের বছরটাও সেরেনার কেটেছে গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপাহীন। সঙ্গে চোট-অসুস্থতা নাছোড়বান্দার মতো পিছু নিয়েছিল তাঁর। ফুসফুসে রক্ত জমে গিয়েছিল। পরে পিপল সাময়িকীতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেরেনা এমনও বলেছিলেন, ‌‘সৌভাগ্য যে এখনো বেঁচে আছি।’ সেই দুঃসহ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর শিক্ষাটা তিনি কাজে লাগিয়েছেন টেনিস সার্কিটেও।