অমরত্ব পেতে যাচ্ছে স্টোরেজ ডিভাইস!


stroge device.jpgআমরা সচরাচর যে সব ডিজিটাল স্টোরেজ ডিভাইস ব্যবহার করি যেমন- ফ্ল্যাশ ড্রাইভ, হার্ড ড্রাইভ, চৌম্বকীয় ও অপটিক্যাল মিডিয়া, এগুলো কয়েক বছর পরই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ফলে হারিয়ে যায় আপনার জমানো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কিন্তু এবার সম্ভবত এ দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছে স্টোরেজ ডিভাইস ব্যবহারকারীরা।
কারণ স্টোরেজ ডিভাইস যে অমরত্ব পেতে যাচ্ছে!
মাইক্রোসফট এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০০ মেগাবাইট ডাটা এমন একটি বস্তুতে সঞ্চিত করেছেন যেখানে তা হাজার হাজার বছর ধরে সংরক্ষিত থাকবে। আর সেই বস্তুটি হচ্ছে ডিএনএ।
গবেষকরা সফলভাবে ১০০টিরও বেশি ভাষায় মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র স্থানান্তরিত করেছেন এবং ‘ওকে গো’ ব্যান্ড এর একটি ভিডিও রয়েছে।
সরকারি নথি এবং ‘ওকে গো’ এর মিউজিক ভিডিও ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে গবেষকরা প্রজেক্ট গুটেনবার্গের শীর্ষ ১০০ বই ও ক্রপস ট্রাস্টের সিড ডাটাবেস এখানে সংরক্ষণ করেছেন।
‘আমরা সৃষ্টিশীল এবং একটি আধুনিক ফরম্যাটে কিছু সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলাম।’ লুইস চেজে, ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং এই প্রকল্পের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় মিডিয়া বিভাগের সঙ্গে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে এ কথা বলেন।
চেজে বলেন, ‘এই পরীক্ষা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছে যা আমাদের কৃত্রিম ডিএনএ জটিলতর পুল নিপুণভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘ডিজিটাল মহাবিশ্ব’ এর কারণে ২০২০ সালে ডিজিটাল ডাটার সংখ্যা ৪৪ ট্রিলিয়ন গিগাবাইট এ পৌঁছাবে যা আমাদের স্টোরেজ ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে।
আর এই স্থানের অভাব পূরণ করার জন্য মাইক্রোসফট এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য যা দিয়ে কিনা একটি ওয়ালমার্ট সুপারসেন্টারও ভরে ফেলা সম্ভব, তাদেরকে একটি চিনির ঘনক্ষেত্রে সঙ্কুচিত করে জমা রাখতে সমন্বিতভাবে এগিয়ে এসেছে।
দলটি এই পদ্ধতিতে ডিজিটাল ডাটার এক শূণ্য এর দীর্ঘ স্ট্রিংকে ডিএনএ অনুক্রমের চারটি মৌলিক ব্লক-এডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিন-এ রূপান্তর করেন।
তারপর ডিজিটাল ডেটা টুকরো টুকরো করে কাটা হয় এবং ক্ষুদ্র ডিএনএ অণু, যা নিরূদ এবং একটি দীর্ঘ সময় জন্য সংরক্ষিত করতে পারে তাতে একটি বিশাল সংখ্যা সংশ্লেষিত দ্বারা সঞ্চিত হয়।
সংরক্ষিত ডেটা পুনরুদ্ধার করার জন্য, দলটি ডিএনএ অনুক্রমের মধ্যে জিপ কোড এবং রাস্তার ঠিকানাগুলো এনকোড করেন যেন তারা প্রয়োজনের সময় এগুলোকে খুব সহজে খুঁজে পেতে সক্ষম হোন।
আর ডিএনএ সিকুয়েন্সিং কৌশল ব্যবহার করে, গবেষকরা ডাটা পড়তে পারেন এবং এদের আসল রূপে ফিরিয়ে আনতে পারেন এবং রাস্তায় ঠিকানা ব্যবহার করে ডেটা পুনর্বিন্যাস করতে পারেন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s