shonir chad.jpgএই পৃথিবীতে প্রাণির বেঁচে থাকার জন্য পানি একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। তবে প্রাণির বেঁচে থাকার জন্য পানির এই তত্ব বোধ হয় আমাদের সৌর পরিবারের সদস্য শনির সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটানের জন্য প্রযোজ্য নয়। সম্প্রতি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স সাময়িকীর সর্বশেষ সংখ্যাটিতে বলা হয়েছে, টাইটানে হাইড্রোজেন সায়ানাইডের (এইচসিএন) অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আর এটা প্রাণের অস্তিত্ব থাকার পূর্ব রাসায়নিক উপাদান।
গবেষণায় দেখা গেছে, টাইটানের এইচসিএন বিক্রিয়ায় পলিমার তৈরি হতে পারে , যার মধ্যে একটিকে পলিমাইন বলা হয়। নাসার ক্যাসিনি অ্যান্ড হাইজেনস মিশন থেকে সংগ্রহ করা তথ্য ও কম্পিউটার মডেলের সহায়তায় গবেষকরা দেখেছেন, টাইটানের মতো উপগ্রহের ঠাণ্ডা পরিবেশে পলিমাইন সূর্যের থেকে শক্তি শোষণ করতে সক্ষম। আর এটি প্রাণের অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।
শনির চাঁদ টাইটানের পরিবেশ অত্যন্ত ঠাণ্ডা। সেখানে পানির অস্তিত্ব না থাকলেও, প্রচুর পরিমাণে রয়েছে তরল মিথেন ও ইথেন। এখানকার ঘন আবহাওয়ায় হলুদ কুয়াশার মতো করে রয়েছে প্রচুর নাইট্রোজেন ও মিথেন। সূর্যের আলোয় এই বিষাক্ত পরিবেশ প্রতিফলিত হওয়ার পর যে বিক্রিয়া হয় তাতে তৈরি হয় হাইড্রোজেন সায়ানাইড।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্টির গবেষক ও এই গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক মার্টিন রাহাম বলেন, আমরা পৃথিবীতে আমাদের নিজেদের পরিবেশে টিকে থাকতে অভ্যস্ত। আমাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ঘরের তাপমাত্রা ও আকাশের অবস্থা নিয়ে। আর এ ক্ষেত্রে টাইটান পুরোপুরি ব্যতিক্রম।
নিজের গবেষণাপত্রকে আগামীর এক চমকপ্রদ আবিষ্কারের প্রথম অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাহাম।