Siddik.jpgবাংলাদেশের গলফার হিসেবে অনেক‘প্রথম’ কীর্তির জন্ম দিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। এবার দেশের প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেন এই গলফার। এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা জেতা প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি গলফার তিনি। দেশের হয়ে গলফ বিশ্বকাপে তিনিই প্রথম। এবার দেশের প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে অলিম্পিকে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় দেশসেরা এই গলফার জানালেন, প্রত্যাশার চাপটা নিতে চান না; উপভোগের মন্ত্র জপেই রিও দে জেনেইরোতে সাফল্য পাওয়ার লক্ষ্য তার।
সোমবার সব শেষ প্রকাশিত অলিম্পিকের র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫৬তম স্থানে থেকে সুযোগটা পেলেন সিদ্দিকুর। নিয়ম অনুযায়ী অলিম্পিকের র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা ৬০ জন গলফে অংশ নেবেন। আগামী ৫ অগাস্ট ব্রাজিলের রিও দে জেনোইরোর অলিম্পিকে শুরু হবে।
২০১০ সালে বাংলাদেশের প্রথম গলফার হিসেবে এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা জেতেন সিদ্দিকুর। দেশের হয়ে প্রথম গলফ বিশ্বকাপেও খেলেন তিনি সেই ধারাবাহিকতায় এবার দেশের প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকে খেলতে যাচ্ছেন ৩১ বছর বয়সী এই গলফার।
প্রাপ্তির আনন্দে ভেসে যাওয়া এই গলফার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অবশ্যই ভালো লাগছে। এটা আসলে অনেক আনন্দের বিষয়। বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আমি অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। এটা অবশ্যই গর্বের। অতীতে বাংলাদেশের কেউ ফুল কার্ড (সরাসরি খেলার সুযোগ) পায়নি; এ কারণে আমি আরও বেশি আবেগাপ্লুত।”
অলিম্পিকে বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের অংশগ্রহন অভিজ্ঞতা অর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকে বরাবর। সিদ্দিকুর প্রতিশ্রুতি দিলেন সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসার।
“বাংলাদেশের অন্য অ্যাথলেটদের মতো আমার ক্ষেত্রে হয়ত ব্যাপারটা ওই রকম হবে না। আশা করি, আমি অলিম্পিকে গলফ উপভোগ করতে পারব।”
গত মে মাসে হওয়া মরিশাস ওপেনে দ্বিতীয় হওয়ার পর বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ২৭৪তম স্থানে উঠে আসেন সিদ্দিকুর। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে এই অবস্থান তাকে অলিম্পিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫৪তম স্থানে নিয়ে এলে অলিম্পিকে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়।
নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা ১৫ জনের মধ্যে প্রতি দেশ থেকে সর্বোচ্চ ৪ জন এবং সেরা পনেরোর পর প্রতি দেশ থেকে সর্বোচ্চ দুই জন অলিম্পিকে সুযোগ পাবেন। কোনো দেশের কোটা পূর্ণ হয়ে গেলে র‌্যাংঙ্কিংয়ের উপরের দিকে থাকলেও আর সুযোগ মিলবে না সেই দেশের অন্য গলফারদের।
বাংলাদেশের বাকি অ্যাথলেটদের অলিম্পিকে খেলার জন্য ভরসা ‘ওয়াইল্ড কার্ড’। এরই মধ্যে রিও দে জেনেইরো অলিম্পিকে খেলার জন্য ওয়াইল্ড কার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশের শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি, আর্চার শ্যামলী রায় এবং দুই সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর ও সোনিয়া আক্তার টুম্পা।