4 hor.jpegআদিকালে মানুষ হেঁটেই এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতো। সঙ্গে কোনো কিছু নিয়ে যেতে চাইলে বহন করতে হতো ঘাড়ে করে। এরপর চাকার ব্যবহার শেখার পর অত্যন্ত দ্রুত পাল্টে যেতে লাগলো পৃথিবীর চেহারা। প্রথমে পশু টানা গাড়ি থেকে শুরু করে একে একে এলো রিক্সা, মোটর গাড়ি, রেল গাড়ি, উড়োজাহাজ। জ্বালানি ছাড়া উড়োজাহাজে একস্থান থেকে আরেক স্থানে যাওয়ার সফল পরীক্ষাও হয়ে গেলো অতিসম্প্রতি। এখন আবার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে যাওয়ার, সময় মাত্র চার ঘণ্টা।
এ লক্ষ্যে তৈরি হচ্ছে হাইপারসনিক বিমান। এর ইঞ্জিন তৈরিতে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইউএসএ) ১১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা হচ্ছে এমন একটি ইঞ্জিন, যা উড়োজাহাজে ব্যবহার করে মানুষ পৃথিবীর যেকোনো স্থানে যেতে পারবে মাত্র চার ঘণ্টায়।
রকেট ও জেট ইঞ্জিনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে অক্সফোর্ডশায়ারের কোম্পানি রিয়্যাকশন ইঞ্জিনস একটি টারবাইন তৈরি করছে। এটি উড়োজাহজের ইঞ্জিনে ব্যবহার করে উড়ে যাবে শব্দের গতির চেয়ে পাঁচগুন দ্রুত গতিতে।
প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, বিএই সিস্টেমের সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারিত্বের সমঝোতা ছাড়াও ইউরোপীয় মহকাশ সংস্থা ও যুক্তরাজ্য মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সাল নগাদ পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হবে ইঞ্জনটি। ইঞ্জিনটির নাম রাখা হয়েছে স্যাব্রে।
রিয়্যাকশন ইঞ্জিনস অতি সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, ব্রিটেন সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ৬৬ মিলিয়ন ডলার ও যুক্তরাজ্য মহাকাশ সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া ৫৫ মিলিয়ন ডলার ও ইএসএর কাছ থেকে পাওয়া ১১ মিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হবে শেষ পর্যায়ের কাজ করতে।
এই ইঞ্জিনটি ব্যবহার করে বিশেষভাবে নির্মিত উড়োজাহাজ যেকোনো রানওয়ে থেকে উড়তে সক্ষম এবং রকেট মোডে যাওয়ার আগে উড়োজাহাজটির গতি শব্দের গতির চেয়ে পাঁচগুন বৃদ্ধি করতে পারে।
ইঞ্জিনটি এমনভাবে নক্সা করা হয়েছে যে, মহাকাশে ভূ-উপগ্রহ উৎক্ষেপনেও এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে খরচ হবে বর্তমান খরচের সামান্য অংশ।
রিয়্যাকশন ইঞ্জিনস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক টমস বলেন, ‘এটি নির্মণ করতে আমরা ইএসএ ওপ্রুক্তরাজ্য মহকাশ সংস্থার কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছি, তা অত্যন্ত মূল্যবান’
‘আমরা এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছি যে, যেখান থেকে স্যাব্রের কাজ আর ত্বরান্বিত করতে পারবো।’
বর্তমানে রকেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় তরল অক্সিজেন ও তরল হাইড্রোজেন। এতে খরচ পড়ে ব্যাপক। কিন্তু সুপারসনিকের এই ইঞ্জিন চলবে শুধুমাত্র তরল অক্সিজেনে। এটি নিজে নিজেই এর জ্বালানি তৈরি করে নেবে। অক্সিজেন তরল করার সময় বরফও তৈরি করবে না এটি। এ কাজ সম্পন্ন হবে মাত্র এক সেকেন্ডের একভাগ সময়ে। ফলে কোনো বাধারও সৃষ্টি করবে না। এর ফলে ইঞ্জিনটি হবে অনেক বেশি নিরাপদ। কোনো ঝুঁকি ছাড়াই অনেক বেশি শক্তিও তৈরি করতে সক্ষম এটি।
বর্তমানে জেট বিমানগুলো ৩৫ হাজার কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়তে সক্ষম। কিন্তু স্যাব্রের নক্সা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে এটি উড়তে সক্ষম ৯২,০০০ ফুট উপর দিয়ে, তখন এর গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪,০০০ মাইল।
একবার মহাকাশে পৌঁছে গেলে ইঞ্জিনটিকে রকেট মোডে পরিবর্তন করার পর এটি কক্ষপথে চলতে পারবে এক নাগাড়ে ৩৬ ঘণ্টা। সেই সময় এটিকে ভূ-উপগ্রহ উৎক্ষেপণের কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
এতে খরচ পড়বে অত্যন্ত কম। বর্তমানে একটি ভূ-উপগ্রহ উৎক্ষেপন করতে খরচ হয় ১০০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু সেই খরচ কমে যাবে এক-দশমাংশে।
নতুন এই ইঞ্জিন ব্যবহার করতে সক্ষম বিশেষ ধরনের একটি বিমান তৈরি করছে বিএই। এই দশকের শেষে এটি নিয়ে পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অবশ্য যাত্রীবাহী হিসেবে এ বিমান তৈরির বিষয়টি এখনো ২০ বছর দূরে রয়েছে।