Investigators-continue-at-the-scene-near-the-heavy-truckফ্রান্সের নিস শহরে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত (১৭ জুলাই) ৬ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেফতারদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। রোববার দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। সংবাদমাধ্যম জানায়, হামলার ঘটনার পরের দিন সন্দেহভাজন হামলাকারীর স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। সেই সঙ্গে দেশটিতে অভিযান চালিয়ে মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে গ্রেফতারকৃতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে শুক্রবার রাতে সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী ছবি প্রকাশ করে ফ্রান্স সরকার। সাদাকালো ওই ছবিটি কিছুটা অস্পষ্ট। সে শান্ত ও রাগী প্রকৃতির ছিলো বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের (১৪ জুলাই) এ হামলার ঘটনায় আহত হয়ে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮৫ জন। তাদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বাস্তিল দিবস উদযাপনের সময় নিরীহ জনতার ওপর দ্রুতগতির ট্রাক চালিয়ে হামলা চালায় বুলেল নামে তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত ফরাসি এক ব্যক্তি। এতে ১০ শিশুসহ নিহত হয় অন্তত ৮৪ জন।
নিসের হামলাকারী মোহাম্মদ লাউইজ বুলেল (৩১) হামলা চালানোর দুদিন আগে ভাড়া করা ট্রাকটি নিয়ে ঘটনাস্থল দেখে এসেছিলেন। তদন্তকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র আজ রোববার এ তথ্য জানায়।
আত্মঘাতী হামলাকারী বুলেল তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত ফরাসি। সে ফ্রান্স ও তিউনিসিয়ার দ্বৈত নাগরিক ছিল। বয়স ছিল ৩১ বছর। নিস শহরেই বসবাস করতো বুলেল।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অপরাধীর তালিকায় তার নাম না থাকলেও পুলিশের খাতায় বুলেলের নাম ছিলো চোর এবং সহিংসতাকারী হিসেবে।
সংবাদমাধ্যম আরও জানায়, হামলার ঘটনার কয়েকঘণ্টা আগে ‍পুলিশের সঙ্গে কথা হয় তার। সেসময় বুলেল একটি রাস্তায় প্রায় নয় ঘণ্টা আক্রমণের লরি দাঁড় করিয়ে রাখে। পুলিশ এ নিয়ে তাকে জেরা করলে সে জানায়, আইসক্রিম ডেলিভার দিতে ঘটনাস্থলে এসেছিলো সে।
এদিকে ফ্রান্সের নিস শহরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে দ্বিতীয় দিন চলছে। সেই সঙ্গে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ফ্রান্সে জারি করা জরুরি অবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
হামলার ঘটনার দু’দিন পর এ হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।