4 stat plear, messi.jpgএ কী কথা শুনি আজ মরিনহোর মুখে! বছর দু-তিন আগেও কথাটা তিনি এভাবেই বলতেন কি না, যথেষ্ট সংশয় আছে। কিন্তু তিন বছরের মধ্যে ফুটবলে অনেক বদল এসেছে, পরিবর্তন এসেছে সম্ভবত হোসে মরিনহোর চিন্তার জগতেও। বর্তমান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ সর্বকালের সেরা তিনের তালিকায় নিজের দেশের সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নন, রেখেছেন লিওনেল মেসিকে। তাও কিনা রোনালদো পর্তুগালের হয়ে ইউরো জেতার স্মৃতি টাটকা থাকতেই!
তা কী বলেছেন মরিনহো? ইংলিশ দৈনিক ডেইলি মিররের প্রতিবেদন, সর্বকালের সেরা কে—এই প্রশ্নের জবাবে ৫৩ বছর বয়সী পর্তুগিজ কোচ বলেছেন, ‘আমার চোখে, ইতিহাসের সেরা তিন খেলোয়াড় হচ্ছে মেসি, পেলে ও ম্যারাডোনা।’
নিতান্তই তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। এ নিয়ে হই-হুল্লোড় করার কিছুই নেই। এমন নয় যে, পেলে-ম্যারাডোনার সঙ্গে সর্বকালের সেরার ছোট্ট ব্র্যাকেটে এই প্রথম কেউ মেসিকে রেখেছেন। অনেকের চোখেই তো সর্বকালের সেরা আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। গত এক দশক ধরে এমন মোহনীয় ফুটবল খেলেছেন, সময়ের সেরা ছাপিয়ে মেসির তুলনা হয় ফুটবল ইতিহাসের সেরাদের সঙ্গেই। কিন্তু বক্তা মরিনহো বলেই সম্ভবত যত ঝামেলা বেঁধেছে! মেসিকে রাখতে গিয়ে এই সময়ের আরেক মহা তারকা রোনালদোকে তালিকায় বাদ দিয়েছেন মরিনহো।
২০১০-১৩ এই তিন বছর রিয়ালে রোনালদোর কোচ ছিলেন মরিনহো। বর্তমানে যে ক্লাবে আছেন, সেখানেও কিংবদন্তির মর্যাদা পান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। তার চেয়েও বড় কথা, রোনালদো তো মরিনহোরই স্বদেশি। কদিন আগে পর্তুগালকে জিতিয়েছেন ইউরো। তারপরও রোনালদোকে বাদ দিয়ে মেসিকে বেছে নেওয়ার কারণেই এখন মরিনহোর সমালোচনা হচ্ছে অনেক। বিতর্কের আরেকটা কারণ আছে, রিয়াল মাদ্রিদে থাকার সময় যে ঠিক উল্টোটাই বলেছিলেন ‘মউ’।
বেশি নয়, তিন বছর আগের কথা। ২০১৩ ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রোনালদো। সেই সময় রিয়ালের দায়িত্বে থাকা মরিনহো দলের প্রাণভোমরার প্রশংসা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘ও-ই সেরা। হ্যাঁ, বিশ্বেরই সেরা। সম্ভবত সর্বকালের সেরা। আমি কয়েকবার ম্যারাডোনাকে দেখেছি। পেলেকে কখনো দেখিনি। কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো অসাধারণ। ও সবার সেরা।’
মন্তব্যটির উৎস নিয়েও সংশয় আছে। মিরর প্রতিবেদনে লিখেছে, লিও মেসি নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট মরিনহোর এই মন্তব্য টুইট করেছে। অবশ্য মরিনহোর ছেলে সেটি আবার রি-টুইট করাকেই মন্তব্যটির বিশ্বস্ততা হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
সব বিতর্কের উত্তর শুধু মরিনহোই বলতে পারবেন।