alo.jpgআলো কি পদার্থ? এ প্রশ্ন বহুদিনের। আলো অদ্ভুত এক চরিত্র। আলো নিজেকে অন্যদের থেকে সতর্কভাবে আলাদা করে রেখেছে। তাই তার রহস্য ভেদ করতে নাভিশ্বাস উঠে গেছে বিজ্ঞানীদের। আলোর পদার্থ-বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া মুশকিল। প্রাচীনকালে দার্শনিক-বিজ্ঞানীরাও আলোর গুহ্যকথা কিছু কিছু আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন। সে ইতিহাস ঘেঁটে বিরক্তি উৎপাদন করতে চাই না। তারচেয়ে বরং পদার্থের অতি সাধারণ কিছু গুহ্য কথা ফাঁস করা যাক।
যে বস্তুকে ধরা-ছোঁয়া যায় সে বস্তু পদার্থ। পদার্থ বল প্রয়োগে বাধা দেয়। কঠিন, তরল ও বায়বীয় অবস্থায় পদার্থ থাকে।
কঠিন পদার্থ ধরা-ছোঁয়া যায়। এর নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন আছে। তাপ দিলে কঠিন পদার্থ এক সময় বাধ্য হয়ে তরলে পরিণত হয়। চাপ প্রয়োগ করলেও তরলে পরিণত হয়। একসাথে চাপ-তাপ বাড়ালে তো কথাই নেই।
তবে কঠিনের চেয়ে কিছুটা সহজ সরল হলো তরল পদার্থ। এদের তরল রাখতে জোরাজুরি করা লাগে না। তাপ-চাপ প্রয়োগেরও দরকার হয় না। স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় তরল। যেমন পানি। তরলকে ছোঁয়া যায়। বল প্রয়োগে বাধাও দেয়। তরলের নির্দিষ্ট আকার নেই। যখন যে পাত্রে রাখা হয় তখন সে পাত্রের আকার ধারণ করে। তবে তরলের নির্দিষ্ট আয়তন আছে। তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত করা যায়।
পদার্থের মধ্যে কেবল বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থই কেবল নিজের চেহারা দেখাতে ভালোবাসে না। অবশ্য জলীয় বাষ্প নিজের ভূতুড়ে চেহারাটা মাঝে মাঝে দেখিয়ে থাকে। গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার-আয়তন কোনোটাই নেই। কিছু কিছু গ্যাসকে অবশ্য স্পর্শ করা যায়। যেমন বাতাস। কিছু গ্যাস আবার স্পর্শানুভূতির বাইরে। গ্যাসের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই। যখন পাত্রে রাখা হয় গ্যাস সে পাত্রের সবটুকু আকার ও আয়তন দখল করে নেয়। আসলে গ্যাসের অণুদের ভেতর তেমন ভাব-ভালোবাসা নেই। যতটা সম্ভব একে অপরের কাছ থেকে দূরে থাকা সম্ভব, সে চেষ্টাই করে।
তবে বল প্রয়োগে বাধা দেবার ক্ষমতা গ্যাসের আছে। ধরা যাক, একটা বেলুন। তার ভেতর গ্যাস ঢোকানো হচ্ছে। ধীরে ধীরে বেলুনটা ফুলতে থাকবে। এক সময় বেলুনের ভেতর আর গ্যাস ধরবে না। তখন আরও গ্যাস ঢোকালে গ্যাস বেলুনের গায়ে প্রচন্ড চাপ তৈরি করবে। এক সময় বেলুন সেই চাপ আর সহ্য করতে পারবে না। ফটাস! ফেটে যাবে বেলুন। এই যে চাপ তৈরির ক্ষমতা আছে গ্যাসের, কেন? সে পদার্থ বলেই চাপটা তৈরি করতে পারছে।
দুষ্টু একটা ছেলের সামনে একটা গ্যাসে ভরা বেলুন রাখা যাক। ছেলেটার হাতে ধরিয়ে দেওয়া যাক একটা ছোট্ট হালকা ঢিল। দুষ্টুটাকে বলতে হবে না কী করতে হবে। দুম করে গ্যাস ভর্তি বেলুনের গায়ে বসিয়ে দেবে ঢিলখানা। বেলুনটি হয়তো সামান্য সরে যাবে অথবা ঢিলটা বেলুনের ওপর বাউন্স করে অন্য দিকে চলে যাবে। বেলুন কিন্তু চুপসে যাবে না। এর মানে, ঢিলটা যে বল বেলুনের ওপর প্রয়োগ করছে, বেলুনও সেই বলটা ভেতরের গ্যাসের ওপর প্রয়োগ করছে। গ্যাসও সেই বল ফিরিয়ে দিচ্ছে বেলুনকে। বেলুন আবার সেই বল ফিরিয়ে দিচ্ছে ঢিলকে। পুরো ঘটনার পেছনের রয়েছে নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র।
গ্যাস পদার্থ বলেই সেটা তার ওপর প্রযুক্ত বলে ফিরিয়ে দিতে পারছে। তবে ঢিলের আকার যথেষ্ট বড় ও ভারি যদি হয়, দুষ্টু বালকের হাতের জোরও যদি বেশি হয়, তখন কিন্তু বেলুন ফেটে যাবে। সেক্ষেত্রেও গ্যাসের ভূমিকা আছে।
কঠিন, তরল, বায়বীয় কোনো পদার্থের বৈশিষ্ট্যই নেই আলোর মধ্যে। তাই আলোকে পদার্থের মর্যাদা দেওয়া যায় না।
তা হলে আলো কী? অনেকে বলেন শুধুই শক্তি।

alo.jpg