Mostafiz.jpgএ যেন ‘এলাম, দেখলাম আর জয় করলাম’! প্রথমবারের মতো আইপিএলে খেলতে গিয়ে চমক দেখানো মুস্তাফিজুর রহমান এবার ইংল্যান্ডে গিয়েও মুগ্ধতা ছড়ালেন। বাংলাদেশের তরুণ পেসার সাসেক্সের হয়ে ন্যাট ওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে অভিষেকেই করেছেন নজর কাড়া বোলিং। এসেক্সের বিপক্ষে দলকে ২৪ রানের মূল্যবান জয় এনে দিতে নিয়েছেন ৪ উইকেট। জিতেছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও।
মোস্তাফিজুর রহমান নাকি খেলেন নিছক আনন্দের আশায়। কোনো উইকেট পাওয়ার লোভ নেই তার। আর তাতেও যদি এভাবে একের পর এক উইকেট ঝুলিতে জমা হয়, তাহলে মন্দ কিসে? বাংলাদেশের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ডে কাউন্টি ম্যাচ খেলতে গেছেন কাটার বয়। সাসেক্সের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই নিজের জাত চেনালেন। এসেক্সের বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা।
চেমসফোর্ডে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় শুরু হওয়া ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২০০ রান করে সাসেক্স। জবাবে ৮ উইকেটে ১৭৬ রানের বেশি করতে পারেনি এসেক্স। তাদের রানের গতি বেঁধে রাখার কাজটা করেন মূলত মুস্তাফিজই। কাটার মাস্টার ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। ২৪ বলের ১৫টিই ছিল ডট!
বল হাতে নেওয়ার আগেই অবশ্য সাসেক্স সমর্থকদের উল্লাসে মাতান মুস্তাফিজ। এসেক্সের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে টিমাল মিলসের বলে নিক ব্রাউনের চমৎকার এক ক্যাচ নেন বাংলাদেশ সুপারস্টার। মুস্তাফিজ প্রথম বোলিংয়ে আসেন পাওয়ার-প্লের শেষ ওভারে, অর্থাৎ ষষ্ঠ ওভারে। প্রথম ওভারে খরচ করেন মাত্র ৪ রান।
এরপর মুস্তাফিজ বোলিংয়ে ফেরেন ষোড়শ ওভারে। এসেক্সের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১৩৩। জয়ের জন্য শেষ ৩০ বলে চাই ৬৮ রান। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলেই এসেক্সের অধিনায়ক রবি বোপারাকে ফিরিয়ে সাসেক্সের হয়ে প্রথম উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এই ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে নেন বোপারার উইকেটটি।
অষ্টাদশ ওভারে এসে দেখান আরো চমক। তার প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন রায়ান টেন ডেসকাটে। তবে তৃতীয় বলে বোল্ড করেন জেমস ফস্টারকে। শেষ বলে বোল্ড করেন ক্যালাম টেলরকেও।
শেষ ওভারে এসেক্সের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫ রান। সাসেক্স অধিনায়ক বল তুলে দেন মুস্তাফিজের হাতে। প্রথম বলটি ডট দেওয়ার পর পরের বলেই  টেন ডেসকাটেকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ। সাসেক্স অভিষেকেই মুস্তাফিজের বোলিং ফিগার ৪-০-২৩-৪!
এর আগে সাসেক্সকে ২০০ ছোঁয়া পুঁজি এনে দেন মূলত ক্রিস জর্ডান। ছয়ে নেমে মাত্র ২১ বলে ৫ ছক্কা ও এক চারে অপরাজিত ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ইংলিশ অলরাউন্ডার। এ ছাড়া ওপরের দিকের চার ব্যাটসম্যান ক্রিস নাশ ১৬, লুক রাইট ৩২, ফিলিপ সল্ট ৩৩ ও রস টেলর করেন ৩৩ রান।