ওষুধি গুণে অনন্য ‘তেলাকুচা’


Telakochu.jpgগ্রামীণ সড়কের পাশে, বনে-জঙ্গলে, পথে-ঘাটে কিংবা বাড়ির আশপাশে একটু খেয়াল করলেই দেখা মিলবে লাউ ফুলের মতো সাদা ফুল আর তরতাজা গাঢ় সবুজ রংয়ের কচিপাতার লতা গাছ। সঙ্গে সবুজ আর লাল টকটকে থোকা থোকা ফল। অনেকটা পটলের মতো দেখতে ফলগুলো পাখিদের খুব প্রিয়। গ্রাম বাংলার সহজলভ্য এ গাছটিই বহু ভেষজগুণ সমৃদ্ধ উদ্ভিদ ‘তেলাকুচা’।
অঞ্চল ভেদে একে কুচিলা, তেলা, তেলাকুচ, তেলাহচিসহ বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।
তেলাকুচা গাছটির ভেষজ ব্যবহারের জন্য এর পাতা, লতা, মূল ও ফল অত্যন্ত উপকারী। ডায়াবেটিস, জন্ডিস, পা ফোলা রোগ, শ্বাসকষ্ট, কাশি, স্তনে দুধ স্বল্পতা, ফোঁড়া ও ব্রণ, আমাশয়, মাথা ঠাণ্ডা রাখা এবং অরুচির রোগের ক্ষেত্রে তেলাকুচা গাছের উপকরণ রয়েছে নানাবিধ ব্যবহার।
গ্রামে তেলাকুচার পাতার রস মাথা ঠাণ্ডা রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। শাক হিসেবেও খাওয়া হয় এর পাতা। পাড়া-মহল্লায় টুকরিতে করে এ শাক বিক্রিও হতে দেখা যায়।
স্থানীয় উদ্যানতত্ত্ববিদ ও কৃষিবিদরা জানান, তেলাকুচা Cucurbitaceae পরিবারভুক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Coccinia grandis। তেলাকুচার পাতার রসে আছে ক্যালসিয়াম, লোহা, ভিটামিন এ এবং সি। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র প্রাকৃতিকভাবে তেলাকুচা জন্মে।
সাধারণ গ্রামের যেখানে-সেখানে অযত্নে বেড়ে ওঠে লতানো গাছ তেলাকুচা। কিন্তু খুব সহজেই পাওয়া গেলেও এর ভেষজ গুণ সম্পর্কে জানেন না গ্রামের অধিকাংশ মানুষ।
শুক্রবার (২৪ জুন) সকালে নাটোরের নলডাঙ্গার বুড়িরভাগ গ্রামের একটি পাকা সড়কের পাশে তেলাকুচা গাছ ও ফলের ছবি তুলতে গেলে একে পাগলামি ভেবে এ প্রতিবেদককে উপহাস করেন পাশে থাকা কয়েক তরুণ। কিন্তু আগ্রহ দেখান সেখানে থাকা ৭০ বছরের বৃদ্ধ জেকেন আলী।
জেকেন আলী বাংলানিউজকে জানান, ছোটবেলায় পেটের পীড়া, জন্ডিস, পা ফোলা, কাঁশি হলেই তেলাকুচার পাতার রস আর শিঁকড় থেঁতলে খাইয়ে দেওয়া হতো তাদের। এতে জলদি রোগ সেরে যেতো। কিন্তু এখন আর তেলাকুচার তেমন ব্যবহার নাই।
লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়ীয়া ওষুধি গ্রাম সংগঠনের সভাপতি মোতালেব হোসেন বাংলানিউজকে জানান, ওষুধি গাছ সর্ম্পকে মানুষ এখন উদাসীন। অথচ এই ভেষজে বিনা খরচে সহজেই রোগ সাড়ে এবং চাষে অর্থনৈতিক ভাবেও লাভবান হওয়া যায়।
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার আমিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে তেলাকুচা রোপণ করতে হয়। বেলে বা দো-আঁশ মাটিতে ভলো চাষ হয়। দুই থেকে আড়াই ফুট দূরত্বে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদ করা যায়।
তিনি জানান, পুরাতন মূল শুকিয়ে যায় না বলে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টি হলে নতুন করে তেলাকুচা জন্ম নেয়। কয়েক বছরের পুরানো মূল থেকে গাছ হয়ে থাকে। এর বীজ থেকেও চারা গজায়।
তিনি বলেন, এ লতা জাতীয় গাছটি অত্যন্ত উপকারী। তাই কৃষক পর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদের জন্য মানুষকে উৎসাহিত করা দরকার।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s