cenema bondo.jpgসিনেমার নাম ‘আমি শুধু তোর হবো’। দেড় সপ্তাহ আগে ছবিটির মহরত হয়েছে। কথা ছিলো চলতি সপ্তাহ থেকে ছবির ক্যামেরা অন হবে। কিন্তু ক্যামেরা অন হওয়ায় আগেই সিনেমাটি নিয়ে চলছে আরেক ‘সিনেমা’। ক্যামেরার পেছনের এই সিনেমার প্রধান তিন চরিত্র প্রডিউসার আব্দুল মজিদ মিল্টন, নায়ক নিরব, পরিচালক রফিক শিকদার।
প্রডিউসার ও নায়কের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন পরিচালক। বেশ কিছু অভিযোগ তুলে তিনি জানিয়েছেন, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ছবিটি তিনি করছেন না। তবে অন্য কোন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে ছবিটি করবেন। ছবি থেকে বাদ দেবেন নিরব ও মমকে।
এর পেছনের ঘটনাটা আসলে কী? চিত্রনায়ক নিরবের দিকে অভিযোগ তুলে জানালেন- ‘রফিক শিকদার, ছবিতে গান কে গাইবে, কে লিখবে সেটা নিরবই ইচ্ছামতো ঠিক করেছে। সে তো আর্টিস্ট। সে কেন এসব সিদ্ধান্ত নেবে? আইটেম গানটা যাকে দিয়ে করিয়েছিলো আমি বললাম, তার গানটা হয়নি। আমি শ্রেয়া ঘোষাল কিংবা তেমন কোন শিল্পীকে দিয়ে গাওয়াবো। কিন্তু সেখানে বাগড়া দেয়। বিষয়টি নিয়ে অনেকবার নিরবের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এমনকি সে আমার স্ক্রিপ্টের উপর ছুরি চালিয়েছে।’
চলচ্চিত্র নির্মাণে নায়কের এমন হস্তক্ষেপ নজিরবিহীন উল্লেখ করে নির্মাতা আরও বলেন, ‘১ তারিখে শুটিংয়ের আগে মিটিংয়ে স্ক্রিপ্ট নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে নিরব স্ক্রিপ্টের শুরুর দৃশ্যটা নিয়ে আপত্তি তোলে। সে দৃশ্যটা বদলাতে বলে। সে যদি সব পারতো তাহলে তো সেই ডিরেক্টর হতো, স্ক্রিপ্ট রাইটার হতো। এমন টিম মেম্বারদের নিয়ে কাজটা করা সম্ভব না। ডিরেক্টর হিসেবে চূড়ান্ত অবহেলা করেছে তারা।’
অথচ নিরবকে দিয়ে আপনি তো এর আগেও সিনেমা করিয়েছেন? ‘আমার আগের ছবিতে নিরব হিরো ছিলো। কিন্তু আমি ছিলাম প্রডিউসার। সেকারণে সেই ছবিতে খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।’
ঘটনার শেষটা এখনেই নয়। ছবির নায়িকাকে নিয়ে বেশ মনোমালিন্য হয়েছে প্রডিউসার-পরিচালকের মধ্যে। রফিক শিকদারের অভিযোগ-কলকাতার একটি মেয়েকে কাস্টিং করানো হয়েছে। কিন্তু সেটা পরিচালক হিসেবে সেটা আমি জানিই না। ডিরেক্টর হিসেবে প্রডিউসারকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘সোনালি’ চরিত্রের জন্য কাকে নিয়েছেন? তারা মেয়েটার নাম বলেনি। এমনকি ছবিও দেখিনি। বলেছে মহরতের দিন দেইখেন। তখন ডিরেক্টর এসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে আমার মনে হয়েছিল সমস্ত ডিরেক্টরদের ছোট করে ফেলছি কী না। ওদের এভাবে সহ্য করে ডিরেক্টর এসোসিয়েশনের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে কী না। যেহেতু ছবিটর ঘোষণা হয়ে গেছে তাই সব সহ্য করে সহ্য করে গেছি। নিজেকে সংবরণ করেছি।’
সিনেমাটির ভবিষ্যত কী এখন? এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্মাতা জানান, ‘আমি যেহেতু সিনেমাটির স্ক্রিপ্ট রাইটার সেহেতু ছবিটি নিজেই শুরু করতে পারবো। অন্য প্রযোজনা হাউস থেকে ছবিটি করবো। ইতিমধ্যেই প্ল্যান করে ফেলেছি। আমার মা অসুস্থ, এখন পাবনায়। ফোনে অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। ঢাকায় গিয়েই আর্টিস্ট নিয়ে এই মাসের মধ্যেই শুটিং শুরু করবো।’
এ ব্যাপারে নিরবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে অপারগতা জানান। শুধু এটুকু জানিয়েছেন, এটা প্রডিউসার ও ডিরেক্টরের ব্যাপার। আমার কিছু বলার নেই।