mails (shafin).jpgকলকাতার সংগীতশিল্পী রূপম ইসলামের ব্যান্ড ফসিলসকে অপপ্রচারের জবাব দিলো বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড মাইলস। বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪ মিনিটে  মাইলসের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন দলটির দুই সদস্য শাফিন আহমেদ ও মানাম আহমেদ।
ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আগামি ১৩ আগস্ট কলকাতায় একটি কনসার্টে গাওয়ার কথা ছিল বাংলা ব্যান্ডের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় আর স্টাইলিস ব্যান্ড ‘মাইলস’-এর। কিন্তু কনসার্টের আগেই কলকাতায় বাংলাদেশের মাইলসের বিরুদ্ধে ভারত বিদ্বেষ-এর অভিযোগ তুলে মাইলসকে বয়কট করতে জনমত গড়ে তুলছে কলকাতার ব্যান্ড দল ‘ফসিলস’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ভোকাল রূপম ইসলাম।
তার এমন অভিযোগে যখন কলকাতা ও বাংলাদেশের শ্রোতা দর্শকরা গোলক ধাঁধায় একে অপরের সাথে কাঁদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত ঠিক তখন এক ভিডিও বার্তা নিয়ে হাজির ‘মাইলস’-এর শাফিন আহমেদ ও মানাম আহমেদ।
১১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে কলকাতার ওই কনসার্ট নিয়ে ফসিলসের মিথ্যাচার ও রূপমের অ-শিল্পীমূলক আচরণ এবং মাইলসের বিরুদ্ধে কলকাতায় ক্যাম্পেইন বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
ভারত বিদ্বেষের যে অভিযোগ তুলে মাইলসকে কলকাতায় গাইতে দেয়া হচ্ছে না সে বিষয়ে পরিষ্কার ভাষায় দলনেতা শাফিন আহমেদ বলেন, আমরা শুনেছি কলকাতায় মাইলসের কনসার্টকে ঘিরে সেখানে একটি ব্যান্ড তাদের ভক্তদের নিয়ে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। আমাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাস পুঁজি করে ‘হেইট ক্যাম্পেইন’-এর মতো করে কিছু করার চেষ্টা তারা করে যাচ্ছে। এই বিষয়ে আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, আমরা বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের ক্ষতি হোক এরকম কিছু কখনো চাই না এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশের ভালোমন্দ ইস্যুতে কিছু বলার অধিকার আমি বা আমরা রাখি। মনে হয় না আমার ব্যক্তিগত স্ট্যাটাসে কী লিখছি তা টেনে এনে ক্ষুব্ধ হওয়ার কোনো কারণ দেখি না।
দেশপ্রেম নিয়ে লেখা মানেই কি ভারত বিদ্বেষ? ইঙ্গিতে এমন প্রশ্নও রূপম ইসলামের প্রতি করেছেন শাফিন আহমেদ। ভিডিও বার্তায় এ নিয়ে শাফিন বলেন, আমি আর আমার ভাই হামিনের যে লেখাগুলোকে ভারত বিদ্বেষ বলে রেফারেন্স দেয়া হচ্ছে সেগুলোর সবই দেশপ্রেম। আর দেশপ্রেমের জায়গা থেকে যে কথাগুলো লেখায় বলেছি সেটা ভারত বিদ্বেষ নয়। ভারত বিদ্বেষ একটা ভিন্ন বিষয়। আমার দেশের ক্ষতি হয় এমন বিষয় নিয়ে আমি কথা বলতে চাইতেই পারি, সে অধিকারও আমার আছে। দ্যাট ইজ নট নেসেসারিলি ভারত বিদ্বেষ বা কোনো ব্যক্তি বিশেষকে উদ্দেশ করে কথা নয়।
ফসিলসের সংকীর্ণ মনোবলের কথা তুলে ধরে তাদেরকে বড় মানসিকতার হওয়ার আহ্বান জানান শাফিন। বিশেষ করে কোনো শিল্পীর তরফ থেকে এমন আচরণ অপ্রাপ্তমনস্ক মনোভাবের পরিচয় দেয় বলে মনে করেন শাফিন ও মানাম আহমেদ। এ নিয়ে মানাম আহমেদ বলেন, আমাদের বাংলাদেশটা ছোট হতে পারে, কিন্তু আমাদের মন বিরাট।
ভারতীয় শিল্পীরা ঘনঘন বাংলাদেশে আসছে। নিয়মিতই আসছে, কিন্তু কখনোই বাংলাদেশের শিল্পীরা বাধা দেয়নি। বরং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করতে আরো বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে এমন আয়োজনের চিন্তা ভাবনা চলছে। অথচ খোদ কলকাতায় বাংলার বিখ্যাত ব্যান্ড মাইলসকে গাইতে না দেয়ার ক্যাম্পেইন করাটা ফসিলস কিংবা রূপমের মতো শিল্পীকেই বরং মানুষের কাছে লজ্জার পাত্র হিসেবে পরিচয় করাবে। তাইতো মানাম আহমেদ এই বিষয়টি তুলে ধরে রূপমের কাণ্ডজ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।
মানাম আহমেদ বলেন, ফসিলসের মতো একটা ব্যান্ড তারা এই বিষয়টা বুঝতে পারলো না। আমি জানি না রূপমের শিক্ষাগত অবস্থান কী। কিংবা তার চিন্তা ভাবনার বিষয়টা কেমন। কারণ অন্যের দেশ প্রেমটাকে কেউ অন্যভাবে ম্যানুপুলেট করে অন্যভাবে ডাইভার্ট করে মানুষের কাছে প্রচার করে বলে যে এটা ভারত বিদ্বেষ এটা খুবই দুঃখজনক।
এক সময় মাইলসের প্রবল ভক্ত ছিলেন ফসিলসের ভোকাল রূপমসহ অনেকে। কিন্তু এখন কি এমন হলো যে সেই সম্মানের জায়গাটা নষ্ট হয়ে গেল। ফসিলসের কাছে প্রশ্ন রেখে সেই কথাটাও নিজের ভিডিওতে জানিয়ে শাফিন আহমেদ বলেন, তাদের (ফসিলস) যাত্রার শুরুতে মাইলসের কতো বড় ভক্ত তারা ছিলেন, যদিও এখন কতোটা ভক্ত সেটা জানি না। তবে আমার মনে আছে কলকাতার কোনো এক হোটেলে তাদের প্রথম অ্যালবামটা আমাদের হাতে দেয়ার জন্য কয় ঘন্টা তারা অপেক্ষা করেছিলেন! তো সম্মানের জায়গাটা এতো তাড়াতাড়ি নষ্ট হবে কেন?
প্রসঙ্গত, গত বছরের মার্চে বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট ম্যাচের পর ফেসবুকে এক পোস্টে বাংলাদেশকে ‘নতুন পাকিস্তান’ বলায় সমালোচিত হয়েছিলেন কলকাতার ‘ফসিলস’ ব্যান্ডের ভোকাল রূপম ইসলাম। ওই সময় তিনি ‘বাংলাদেশিরা ছোটলোক’ এ জাতীয় ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাও বলেন। যদিও জনরোষে পড়ে বিতর্কিত স্ট্যাটাসগুলো মুছে ফেলতে বাধ্য হন এই রক গায়ক। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ, এমনকি ভারতীয়রাও রূপমের এই ঔদ্ধর্তপূর্ণ আচরণের সমালোচনা করেছিলেন সেসময়।