asam-20160805145625.jpgভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের একটি মার্কেটে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশটির অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। শুক্রবার (০৫ আগস্ট) আসামের কোকরাঝড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।
এ সময় পুলিশের গুলিতে একজন হামলাকারীও নিহত হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে তথ্য জানানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্য পুলিশ বিবিসিকে জানিয়েছে হামলাকারীদের একজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যান্ড এর সদস্য। জঙ্গিদের গুলি ও গ্রেনেড হামলায় আরও অনেকেই আহত হয়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। হামলাকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ভারতের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসমের কোকরাঝাড় থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বালাজান বাজারে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলা ও গুলিতে ১২ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত হয়েছে এক জঙ্গি।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ একটি টাটা সুমোতে চেপে ৫-৭ জন সশস্ত্র জঙ্গি বালাজান বাজারে নেমেই এলোপাথারি গুলি চালাতে থাকে। সেই সঙ্গে গ্রেনেড নিয়ে হামলা চালায়। ব্যস্ত বাজারে আচমকাই হামলা চালানোয় দিশেহারা হয়ে পড়েন মানুষ।
খবর পেয়ে কোকরাঝাড় জেলা পুলিশ এবং সিআরপিএফ-একটি বিশাল দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। খবর দেওয়া হয় সেনা জওয়ানদের। এর পরেই জঙ্গি এবং নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল সংঘর্ষ। প্রায় আধঘণ্টা ধরে দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে মৃত্যু হয় এক জঙ্গির। মৃত জঙ্গির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি একে ৫৬ রাইফেল এবং একটি তাজা গ্রেনেড।
ডিজিপি মুকেশ সহায় আন্দবাজারকে জানিয়েছেন, এনডিএফবি (সংবিজিত) এই হামলার সঙ্গে জড়িত। তিনি আরও জানান, যে গাড়িতে করে জঙ্গিরা এসেছিল সেটার নম্বরপ্লেট খতিয়ে দেখা গিয়েছে, ওই নম্বরের কোনও রেজিস্ট্রেশন নেই। জঙ্গিরা গুলি চালাতে জঙ্গলের দিকে পালায়। তাদের খোঁজে এলাকজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।