herath.jpgশ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হ্যাটট্রিক পেয়েছেন শ্রীলঙ্কার বোলার রঙ্গনা হেরাথ। টেস্ট ক্রিকেট এখন পর্যন্ত ৪২টি হ্যাটট্রিক দেখেছে। মাত্র দ্বিতীয় শ্রীলঙ্কান হিসেবে সর্বশেষ আজ সেটি করলেন রঙ্গনা হেরাথ। তবে বাকি সব হ্যাটট্রিকের চেয়ে সেটি একটু ব্যতিক্রমই। ডিআরএস না থাকলে যে হ্যাটট্রিকটা হতো না! গল টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই শ্রীলঙ্কার ২৮১ রান তাড়া করে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়ে গেছে ১০৬ রানে। ডিআরএস আবেদনে পাওয়া হ্যাটট্রিক এটাই প্রথম।
শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এ কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। তবে একটি দিক বিবেচনা করলে হেরাথের হ্যাটট্রিকটিকে একটু অন্যরকমই বলা যায়। কারণ তার তৃতীয় উইকেটটি রিভিউ আবেদনের মাধ্যমে পাওয়া গিয়েছে। আর ডিআরএস আবেদনে পাওয়া এটাই প্রথম হ্যাটট্রিক।
গলে স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বোলিং তোপে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা কেউই দাঁড়াতে পারছিলেন না। মাত্র ১০৬ রানেই তাদের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায়। স্বাগতিকদের দুই বোলার দিলরুয়ান পেরেরা ও হেরাথ ৪টি করে উইকেট নেন। যার মধ্যে হেরাথের হ্যাটট্রিক ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের সপ্তম ওভারে হেরাথ অ্যাডাম ভোজেসকে বল করছিলেন। ওই ওভারের প্রথম তিন বলে ভোজেস কোন রানই নিতে পারেননি। চতুর্থ বলে তিনি করুনারত্নের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন। এর পরের বলে পিটার নেভিলকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন হেরাথ। আর শেষ বলটিও মিচেল স্টার্কের প্যাডে লাগে। তবে এতে আউটের আবেদন করলে আম্পায়ার অসম্মতি জানান।
সে সময় বেশ দ্বিধান্বিত হয়েই স্বাগতিকদের দলপতি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস একেবারে শেষ মুহূর্তে রিভিউ নেন। এটাই ছিল শেষ রিভিউ। তাই একটু ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ম্যাথিউস। তবে সিদ্ধান্তটা যে মোটেও ভুল ছিল না এটা একটু পরেই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এ আবেদনেই হেরাথের হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়েছে।
এছাড়াও হেরাথ টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বয়সের বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব অর্জন করলেন। তিনি ৩৮ বছর বয়সে এসে এই কীর্তি গড়লেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে এর আগের হ্যাটট্রিকটি ছিল নুয়ান জয়সার। তিনি ১৯৯৯ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক পেয়েছিলেন।