yusra mardinঅলিম্পিকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘শরণার্থী’ একটি দল অংশ নিয়েছে। রিও অলিম্পিকে ১০ সদস্যের শরণার্থী দলটিকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে জার্মানি। এই দলেরই একজন ইউসরা মারদিনি। শরণার্থী দলটির প্রথম সদস্য হিসেবে রিওর সুইমিংপুলে নেমেই অলিম্পিক জয় করলেন ১৮ বছর বয়সি এই সিরিয়ান তরুণী!
১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে হিটে জিতেছেন ইউসরা। সময় নিয়েছেন ৯.২১ সেকেন্ড। কিন্তু সব মিলিয়ে তার অবস্থান ৪১তম। পরের রাউন্ডে ওঠে মোটে ১৬ জন। ইউসরার তাই পরের রাউন্ডে ওঠা হয়নি। তবে এবারের অলিম্পিক তার কাছে স্মরণীয় হয়েই থাকবে।
ইউসরা একটা সময় তার দেশের সেরা সাঁতারু ছিলেন। অংশ নিয়েছিলেন ২০১২ সালের ফিনা বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপেও। কিন্তু সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হলে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার। লেবানন হয়ে তুরস্কে এসে সেখান থেকে মোটরচালিত রাবারের ডিঙিতে করে ইজিয়ান সাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। মাঝসাগরে ডিঙির মোটর নষ্ট হয়ে যায়। তখন ইউসরা, তার বোন সারাহ এবং অন্য কয়েকজন নারী মিলে সাড়ে তিন ঘণ্টা সাঁতরে সেই ডিঙি ঠেলেছিলেন। তাদের সাহসিকতায় সেদিন জীবন বেঁচেছিল নৌকায় থাকা ১৯ জন শরণার্থীর। জার্মানির শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া ইউসরাই লড়লেন রিও অলিম্পিকে।
নানা কারণে দুই বছর সাঁতারের বাইরে থাকায় ইউসরার সামর্থ্যে মরচে পড়েছে। আগের টাইমিংয়ের সাথে এখনকার টাইমিং তুলনা করে তাই ইউসরা বললেন, ‘আসলে দুই বছর আগে আমি সাঁতার ছেড়েছি। নিজের সেরাটা ফিরে পেতে চেষ্টা করছি।’ অলিম্পিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য লাগছে। সবাই আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। অলিম্পিকে অংশ নেওয়া সত্যিই বর্ণনাতীত একটা বিষয়।’