অলিম্পিক পদকের বিবর্তন


olymic Nobel.jpgবেসামরিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খেতাবে ভূষিত করতে ব্যবহার করা হয় স্বর্ণপদক (গোল্ড মেডেল)। কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ আজকাল এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে প্রায় সব জায়গায়, সব ক্ষেত্রে।  অষ্টাদশ শতাব্দীতে ডেনমার্কের রয়্যাল ড্যানিশ একাডেমি পড়াশোনায় সর্বোচ্চ সাফল্যের জন্যে প্রথম স্বর্ণপদক প্রদান করে। সেই রীতি আজও চলছে ডেনমার্কে। বিভিন্ন সংগঠন আজ ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দিয়ে আসছে স্বর্ণপদক। নোবেল বিজয়ীদেরকেও দেওয়া হয় স্বর্ণপদক। বর্তমানে নোবেল বিজয়ীদের স্বর্ণপদকে ২৪ ক্যারেটের সোনা ব্যবহার করা হয়। ১৯৮০ সালের আগে ব্যবহৃত হতো ২৩ ক্যারেটের সোনা।
আধুনিক অলিম্পিক গেমসে সর্বোচ্চ সাফল্যের জন্য স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। সাফল্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারকারীদের দেওয়া হয় রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদক।
তবে অলিম্পিকের মেডেলের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। প্রাচীন অলিম্পিক গেমসে মাত্র একজনকে পুরস্কৃত করা হতো। অলিম্পিয়ার জিউসের মন্দিরের কাছের একটি পবিত্র গাছের পাতার সঙ্গে বুনো জলপাইয়ের পাতা দিয়ে তৈরি বিশেষ মালা-ই ছিল প্রাচীন অলিম্পিকের সর্বোচ্চ পুরস্কার। ১৮৯৬ সালে আধুনিক অলিম্পিকে পুরস্কার হিসেবে মেডেল দেওয়া শুরু করে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। তবে গ্রিসের অ্যাথেন্স অলিম্পিকে ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্যে স্বর্ণ পুরস্কার দেওয়া হয়নি। গ্রুপ পর্বের বিজয়ীকে স্বর্ণ দেওয়া শুরু করেন আয়োজকরা। ব্যক্তিগত ইভেন্টের বিজয়ীকে রৌপ্য পদকের সঙ্গে জলপাই পাতার তোড়া এবং রানার্স-আপকে ব্রোঞ্জ পুরস্কার দেওয়া হয়।
১৯০০ সালে বিজয়ীকে দেওয়া মেডেলের পরিবর্তে কাপ অথবা ট্রফি দেওয়া হয়েছিল। তবে চার বছর পর ১৯০৪ যুক্তরাষ্ট্র অলিম্পিকে সব পাল্টে যায়।
গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়। সময়ের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন আসে অলিম্পিক পদকে। রঙ, বৈচিত্র্যে লাগে আধুনিকতার ছোঁয়া। কিন্তু চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত অলিম্পিকের প্রতিটি ইভেন্টে তিনটি পুরস্কার দেওয়ার রীতি আজও অব্যাহত।
চলতি রিও ২০১৬ অলিম্পিকেও ব্যবহার করা হচ্ছে তিনটি পুরস্কার (স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ)। এবারের অলিম্পিকের জন্য ২ হাজার ৪৮৮ পদক তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ৮১২টি স্বর্ণ, ৮১২টি রৌপ্য এবং ৮৬৪টি ব্রোঞ্জ। প্রতিটির ওজন ৫০০ গ্রাম। লন্ডন অলিম্পিকের চেয়ে এবারের অলিম্পিকের পদকগুলোর ওজন একটু বেশি, তবে আকারে সমান।
এবার যারা স্বর্ণপদক পাচ্ছেন তাদের পদকে সোনা রয়েছে ৬ গ্রাম। স্বর্ণপদকে কোনো পারদ ব্যবহার করা হয়নি। রৌপ্য ও বোঞ্জ পদকে ৩০ শতাংশ পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া রিবন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে পুরোনো প্লাস্টিকের বোতল। পদকের জন্য বৃত্তাকার বাক্স ব্যবহার করা হচ্ছে, যা তৈরি হয়েছে মূল্যবান ফিজো কাঠ দিয়ে।
বিশ্বের সেরা এ ক্রীড়া আসরে ২৮টি খেলায় ও ৪২ ডিসিপ্লিনে ১১ হাজার অ্যাথলেট অংশ নিয়েছে। স্বর্ণপদকের পোডিয়াম মূল্য আনুমানিক ৫৬৪ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা ৪৫ হাজার ১২০ টাকা (ডলার ৮০ টাকা দরে)। তবে ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে স্বর্ণপদকের দাম ছিল ৭০৮ ডলার। যদি ১৯১২ সালের মতো স্বর্ণপদকে পুরোটাই সোনা ব্যবহার করা হতো তাহলে মূল্য দাঁড়াত ২২ হাজার ডলার। এ ছাড়া এবার রৌপ্যপদকের পোডিয়াম মূল্য ৩১৫ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা ২৫ হাজার ২০০ টাকা।
অলিম্পিকের পদকের আর্থিক মূল্য শুধু ধারণা দেওয়ার জন্যেই বলা। কিন্তু এর মূল্য কতটুকু তা বলে, লিখে বোঝানো কঠিন। একটি পদক শুধু একজন খেলোয়াড়ের নয়, পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রতিনিধিত্ব করে দেশের পতাকাকে, তার সমাজকে এবং তার শ্রেষ্ঠত্বকে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s