pogba+01.jpgপল পগবা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়েছিলেন ফ্রি ট্রান্সফার ফিতে; চার বছরের ব্যবধানে ফ্রান্সের এই মিডফিল্ডার চেনা আঙিনায় ফিরলেন রেকর্ড গড়ে। ইউভেন্তুস থেকে ১১ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এসেছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারে পরিণত হওয়া ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
চুক্তি অনুযায়ী ইউভেন্তুসকে ১০ কোটি ৫০ লাখ ইউরো দেবে ইউনাইটেড। পগবার পারফরম্যান্স আর আরও কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে আরও ৫০ লাখ ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯১৩ কোটি টাকায় তারা পল পগবাকে বেচে দিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো এই, জুভেন্টাস তাঁকে ফ্রিতে পেয়েছিল এই ইউনাইটেডের কাছ থেকেই!
একেবারে ফ্রি হলেও অবশ্য ১৫ লাখ ডলার গুনতে হয়েছিল সে সময়। ১৫ লাখ ডলার মানে ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এই চার বছরেই তাঁর দাম বেড়ে দাঁড়াল ৯১৩ কোটি! দাম বাড়ল ৯ গুণ! প্রশ্ন তুলতেই পারেন, তাহলে কি বোকামি করেছিল ইউনাইটেড? আসলে গল্পটা একটু অন্য রকম।
ইউনাইটেডই এই প্রতিভাকে খুঁজে বের করেছিল। ইউনাইটেডের যুব একাডেমিতে তাঁকে নিয়ে এসেছিল স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের দুঁদে স্কাউটরা, যাঁরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও তুলে এনেছিলেন পর্তুগাল থেকে। অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিভা ভাবা হচ্ছিল পগবাকে। কিন্তু খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না নিয়মিত। গোটা সাতেক ম্যাচ খেলেছেন বদলি খেলোয়াড়ের ভূমিকায়।
তখনকার ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডারের ওপর কি আস্থা পাচ্ছিলেন না ফার্গুসন? হতে পারে। ২০১১ সালের বছর শেষের ম্যাচে ইউনাইটেড পড়েছিল ভীষণ খেলোয়াড়–সংকটে।
ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে দল সাজিয়েছিলেন ফার্গুসন। তবু নেননি সেবার যুব এফএ কাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখা পগবাকে। এটাই বারুদে শেষ কাঠি ঠুকে দেয়। পগবা মনস্থির করে ফেলেন, এখানে নয়।
সেবার ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে ম্যাচটা ৩-২ গোলে হেরেছিল ইউনাইটেড, যে হার পরে ট্রফি হাতছাড়াতেও রেখেছিল ভূমিকা। ইউনাইটেড তখনো বোঝেনি, আরও একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেছে তাদের। গোপনে জুভেন্টাসের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেলেছেন পগবা। ইউনাইটেড যখন তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে এল, পগবা সরাসরি অস্বীকার করলেন। চুক্তির মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় পগবাকে বিক্রি করার অধিকার থাকল না ইউনাইটেডের। ফ্রি এজেন্ট হিসেবে জুভেন্টাসে, তাঁর নায়ক জিনেদিন জিদানের প্রিয় ক্লাবে চলে গেলেন পগবা। ক্ষতিপূরণ হিসেবে অবশ্য ১৫ লাখ ডলার পেয়েছিল ইউনাইটেড।
এরপর গত চার বছরে পগবা যেন ফুল হয়ে ফুটলেন। জুভেন্টাসের হয়ে জিতেছেন চারটি লিগ শিরোপা। দলকে নিয়েছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে। এরপর সিনিয়র দলের ফুসফুস হয়েই ফিরলেন ইউনাইটেডে। জুভেন্টাসের মাঝখান থেকে হয়ে গেল বিরাট লাভ। যে খেলোয়াড়টিকে চার বছর আগে পেতে ১১৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল, আজ তাঁকেই বিক্রি করা হলো ৯১৩ কোটিতে!