harrasment-.jpgঅর্ধেকেরও বেশি ব্রিটিশ নারী নিজ কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হন; তবে তাদের ৮০ শতাংশই হয়রানির বিষয়টি নিয়োগকর্তাদের কর্ণগোচরে আনেন না। হয়রানির বিষয়টিতে কখনোই মুখ খোলেন না হয়রানির শিকার অনেক নারীই!
ব্রিটেনজুড়ে ১ হাজার ৫৫৩ জন নারীর মাঝে পরিচালিত এক জরিপে অংশ নেওয়া  এক-পঞ্চমাংশ নারীই জানান কর্মক্ষেত্রে তারা তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধায়কের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এক-চতুর্থাংশ নারী মনে করেন যৌন হয়রানির অভিযোগ কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করলে তা গুরুত্বসহকারে নেওয়া হতো না।
‘ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (টিইউসি)’ এবং নারী অধিকারের সংগঠন ‘এভরিডে সেক্সিজম’ পরিচালিত ওই জরিপে আরও জানা যায়, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের অবস্থাই সবচেয়ে নাজুক। এই বয়সের দুই-তৃতীয়াংশ কর্মজীবী নারী কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হন।
টিইউসি’র হেড অব ইক্যুয়ালিটি অ্যালিস হুড ‘টমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন’কে বলেন, প্রাপ্ত পরিসংখ্যানই বলছে অবস্থা কী ভয়াবহ! কর্মক্ষেত্রে নারীর যৌন হয়রানির ঘটনা এখনও একটা গুরুতর সমস্যা। এটা সহজেই তিরোহিত হচ্ছে না।
অ্যালিস হুড আরও বলেন, বেশিরভাগ নারীই হয়রানির বিষয়টি অভিযোগ আকারে উত্থাপন করেন না। এটা নিয়ে তারা বিব্রত বোধ করেন, বিষয়টিকে তারা এড়িয়ে যেতে চান। ক্যারিয়ারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে ভয়েও অনেকে যৌন হয়রানির বিষয়টিকে আমলে আনেন না।
যৌনতা সংক্রান্ত জোক্স, কটাক্ষ, ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ, পর্ন গল্প, শরীর স্পর্শ করা, গায়েপড়া ভাব, অপ্রত্যাশিত যৌন আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ সহ বিভিন্ন কায়দায় পুরুষ সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হন বলে  জানিয়েছেন ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মজীবী নারীরা।
জরিপকৃত নারীদের এক-তৃতীয়াংশ বলেছেন, তারা কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের যৌন গল্পের বিষয়বস্তু হয়েছেন। বিভিন্ন ছুতোয় শরীরের বিভিন্ন স্থানে অপ্রত্যাশিতভাবে  পুরুষরা হাত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক-চতুর্থাংশ নারী।
এভরিডে সেক্সিজমের প্রতিষ্ঠাতা লরা বেটস বলেন, মানুষ যতটা বলে তার কিছুই অগ্রগতি ঘটেনি এ ব্যাপারে। হয়রানির বিষয়টি নিয়ে কর্মক্ষেত্রে তেমন কথাবার্তা না হলেও এটা খুবই পরিব্যাপ্ত। এ সমস্যা মোকাবেলায় নারীরা নিজেদের খুব সক্ষম মনে করেন না, তারা যখন প্রশ্নটি উত্থাপনও করেন তখন যথাযথভাবে বিষয়টির সুরাহাও করা হয় না।
অন্যদিকে অ্যালিস হুড মনে করেন, নিয়োগকর্তাদের যৌন হয়রানির বিষয়টির সমাধানে তৎপর হওয়া উচিত। কর্মীদের প্রশিক্ষণ, কর্ম-পরিবেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এবং কঠোর নিয়ম-নীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেও মনে করেন হুড।
‘যৌন হয়রানির ব্যাপারে নিয়োগকর্তাদের সতর্ক হতে হবে। গুরুতর এই সমস্যাকে এড়িয়ে না গিয়ে একে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়াই হলো এ সমস্যা সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ। এ ব্যাপারে যথাযথ গুরুত্ব দিলেই লোকে বুঝবে যৌন হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়’, যোগ করেন অ্যালিস হুড।