Sultanসময়টা নব্বই দশকের শুরুর দিকে। দেশের সব অঞ্চলে তখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। তাই অনেক স্থানে টেলিভিশন চালানো হতো চার্জেবল ব্যাটারি দিয়ে। ঠিক এমন একটা সময়ে বিটিভিতে প্রচারিত হতে শুরু করে টিপু সুলতানের কাহিনি নিয়ে নির্মিত ধারাবাহিক ‘দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান’।
দর্শকপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে, ধারাবাহিকটির প্রতিটি পর্ব দেখার জন্য মুখিয়ে থাকতেন অগণিত দর্শক। এজন্য পূর্ব প্রস্তুতিস্বরূপ অনেকে ব্যাটারির চার্জ আছে কি না তা নিশ্চিত হয়ে নিতেন। আবার এমনও ঘটেছে, অনুষ্ঠান চলাকালীন বিদ্যুৎ চলে গেলে ক্ষুব্ধ দর্শক ভাঙচুর করেছে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস।
তারপর কেটে গেছে অনেকটা সময়। আবারো এ দেশের দর্শক এই ধারাবাহিক দেখতে পাবেন টিভি পর্দায়। মাছরাঙা টিভি চ্যানেলে আজ শুক্রবার থেকে প্রচারিত হতে যাচ্ছে ‘দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান’। সপ্তাহের শুক্র, শনি ও রোববার রাত ৯টায় প্রচারিত হবে অনুষ্ঠানটি।
পুনরায় কেন এই সিরিজ প্রচার করতে যাচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে চ্যানেলটির অনুষ্ঠানপ্রধান আরিফুর রহমান বলেন, ‘দর্শকদের নস্টালজিক করতেই সিরিজটি নতুন করে প্রচার করতে যাচ্ছি। এর গল্প তো আমাদের এই উপমহাদেশেরই।’
মোগল সাম্রাজ্যের সূর্য ডোবার সময় হিন্দুস্তান ভাগ হয়ে ছোট ছোট রাজ্যে পরিণত হয়। তখন সাত সমুদ্রের ওপার থেকে ইংরেজ বণিকদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুযোগ বুঝে হিন্দুস্তানের ওপর মেলে দেয় তাদের লোভের রক্তাক্ত ডানা। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ইংরেজরা খুব গভীর চাল চালতে শুরু করে। এই রাজনৈতিক কূটচালে জড়িয়ে অধিপতিরা একের পর এক রাজত্ব হারাতে থাকে।
যখন ইংরেজ ফৌজির অত্যাচারের তাপ মহীশূরের সীমানায় এসে লাগে তখনই প্রতিবাদে ঝলসে ওঠে একটি তলোয়ার। সেই তলোয়ার শের-ই-মহীশূর টিপু সুলতানের।
সিরিজটি নির্মাণ করেছেন সঞ্জয় খান। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পরিচালক নিজেই। ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এই সিরিজের শুটিং সেটে আগুন লেগে ৬২ জন কলাকুশলী মারা যান। গুরুতর আহত হয়ে প্রায় এক বছর হাসপাতালে ছিলেন পরিচালক নিজে। তখন তার প্রায় ৭২টি সার্জারি করতে হয়েছিল।