যত্নে থাকুক প্রিয় বই


Bookself.jpgটুপুর টুপুর বৃষ্টিতে বিছানায় শুয়ে হাতে একটা বই নিয়ে পড়ার অনুভূতি একেবারেই আলাদা, যা আধুনিক যুগের ‘ই-বুক’ মেটাতে পারে না৷ প্রযুক্তির আধুনিকায়ন হলেও বইয়ের আবেদন যেন সবসময় থাকবে। মূল্যবান বইটিকে অকেদিন ধরে সংরক্ষণ করতে হলে নিতে হবে বইয়ের সঠিক যত্ন। অনেক কারণেই বই এর ক্ষতি হতে পারে। পোকায় কাটতে পারে, আর্দ্রতা ক্ষতি করতে পারে, ধুলাবালিতে ক্ষতি হতে পারে। পড়ার সময় ঠিকভাবে যত্নবান না হলে ছিড়ে যেতে পারে। তাই একটু যত্নবান বা সচেতন হলেই প্রিয় বইগুলোকে দীর্ঘদিন অক্ষত রাখা সম্ভব। বইকে পোঁকা কাটা, ধুলো জমা, ছিড়ে বা বর্ষায় নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে কীভাবে রক্ষা করবেন জেনে নিন৷
বুক শেলফ : বইয়ের যত্নের জন্য প্রথমেই দরকার ভালো একটি শেলফ বা বইয়ের তাক, যা সহজেই পরিষ্কার করা যায়৷ সবচেয়ে ভালো হয় যদি শেলফে কাঁচের দরজা থাকে৷ এমনটা হলে ধুলোবালি কম পড়ে, আবার বইগুলো বাইরে থেকে দেখাও যায়৷ কাঁচের শেলফ না থাকলেও, বই কিন্তু কখনোই দরজা বা জানালার গা ঘেষে রাখবেন না৷ এতে রোদ বা বৃষ্টির ছাট এসে সহজে নষ্ট করে দিতে পারে আপনার শখের বইগুলোকে৷
মুছে নিন : বই পোঁকা কাটে, এতে ধুলো জমে, বই দুর্গন্ধ হয় কিংবা ছিড়ে যায়৷ ধীরে ধীরে কেনা প্রিয় বইয়ের এই অবস্থা যাতে না হয়, সেজন্য মাঝে মাঝে বইগুলোকে শেলফ থেকে নামিয়ে আস্তে আস্তে সেগুলো শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন৷ তারপর কিছুক্ষণ রোদে রাখার পর আবারও যত্ন করে তুলে রাখুন বইয়ের তাকে৷
পড়ার অভ্যাস : বই জ্ঞানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে, দৃষ্টিকেও করে প্রসারিত৷ তাই ছোটবেলা থেকে শিশুদের যেমন বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার অভ্যাস করা দরকার, তেমনি বইয়ের যত্নও শেখানো উচিত৷ এর জন্য বইয়ের ভেতরে নিমপাতা এবং শেলফের প্রত্যেকটি তাকে একটি বা দু’টো করে ন্যাপথলিন বল রেখে দিন৷ এছাড়া শুকনো ল্যাভেন্ডারের ফুল দিয়ে ছোট ছোট পুঁটলি বানিয়ে শেলফের কোণায় রাখতে পারেন৷ এটা বইকে পোঁকা কাটা থেকে দূরে রাখবে৷
গুছিয়ে রাখুন : গাদাগাদি করে বই না রেখে, বিষয় অনুযায়ী বইয়ে লেবেল লাগিয়ে গুছিয়ে রাখুন৷ তাছাড়া সব বই যে একদিনেই মুছতে বা পরিষ্কার করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই৷ সময় কম থাকলে একেকদিন একেক বিষয়ের বইগুলো পরিষ্কার করুন, যত্ন নিন৷ এতে বই খুঁজে পাওয়া এবং পরিষ্কার করে বই গুছিয়ে রাখা অনেক সহজ হয়ে যাবে৷ তাছাড়া বইপ্রেমী বন্ধুদের উপহার খুঁজতেও গোছানো বুক শেলফ সাহায্য করবে আপনাকে৷
রাসায়নিক পাউডার : তুলনামূলকভাবে বেশি পুরনো বইয়ে কিন্তু পোঁকামাকড় ও দুর্গন্ধ বেশি হয়৷ এ সব এড়াতে কেউ কেউ বইয়ের ভেতর রাসায়নিক পাউডার দিয়ে রাখেন, যা একেবারেই উচিত নয়৷ কারণ বইয়ে থাকা পাউডার থেকে বই পড়ার সময় শরীরের ক্ষতি হতে পারে৷ আসলে বই নিয়মিত ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করে রাখলে বইয়ের মধ্যে রাসায়নিক ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন হয় না৷
বইয়ের মলাট : পড়ার আগে বইয়ে মলাট লাগিয়ে নিলে বইয়ের ওপরটা অনেকদিন পর্যন্ত নতুন থাকে৷ আর যদি পড়ার সময় প্রিয় বইটির চেহারা দেখতে চান, তাহলে ট্রান্সপারেন্ট পেপারের মলাট লাগিয়ে নিন৷ তাহলেই আর কোনো অসুবিধা থাকবে না৷ তবে হ্যাঁ, পড়ার সময় বা পরিষ্কার করার সময় বই কিন্তু কখনো ভেজা বা নোংরা হাত দিয়ে ধরবেন না৷
সাবধান!
বইপ্রেমীদের মনের পিপাসা মেটাতে যে বিশ্বের সব বই কিনে পড়া সম্ভব নয়, তা সকলেই জানে৷ এরপরও অনেকে বই পড়তে নিয়ে ছিড়ে ফেলে, অযত্নে রেখে নষ্ট করে৷ এটা সত্যিই বেদনাদায়ক৷ তাই কাউকে নিজের শখের বা দরকারি কোনো বই পড়তে দেওয়ার আগে এই কথাটি মনে করিয়ে দেবেন৷ আর তা হলো, আপনার দেওয়া বইটি যদি ভালো থাকে, তবে বন্ধুত্বও টিকে থাকবে৷ তাই বইয়ের যত্ন নিন, অন্যদের যত্ন নিতে উদ্বুদ্ধ করুন৷

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s