donald_trumpযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করতে না করতেই গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকেরা পৃথিবীর সবচেয়ে ‘অসৎ মানুষদের’ শ্রেণিভুক্ত। শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই নন, হোয়াইট হাউসের প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাংবাদমাধ্যমকে অভিযোগ করেই ট্রাম্প প্রশাসনের যাত্রা শুরু হলো।
অভিষেক অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য হাজিরের অভিযোগ এনে তিনি বলেছেন, ‘পৃথিবীতে সাংবাদিকরা মানবজাতির সবচেয়ে অসৎ শ্রেণিভুক্ত।’ তার দৃষ্টিতে ‘ভুল খবর’ প্রকাশকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুকি হতে বলে হুমকি দেন ট্রাম্প। অভিষেকে জনতার উপস্থিতি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘বহু লোকের সমাগম হয়েছিল। আপনারা দেখেছেন তাদের। কানাকানায় পূর্ণ ছিল। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে একটি নেটওয়ার্কে ঢুকে দেখি, তারা দেখিয়েছে, ফাঁকা মাঠ।’
গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ, ফাঁকা স্থানে ছবি তুলে প্রচার ও প্রকাশ করা হয়েছে। তার দাবি, তার শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ উপস্থিতি ছিল। কিন্তু তার এ দাবির সঙ্গে গণমাধ্যমের হিসাবের কোনো মিল নেই।
শপথ নেওয়ার পরদিন স্থানীয় সময় শনিবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন। এ সভায় গোয়েন্দাদের প্রতি তার নির্দেশনা, বা কেমন করে এ সংস্থার সঙ্গে তিনি সম্পর্ক বাড়াবেন, সেসব নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। কিন্তু ১৫ মিনিটের বক্তব্যে নয় মিনিটই তিনি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভালো সম্পর্ক যাচ্ছে না। নির্বাচনী প্রচার থেকে শপথ গ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি ঢালাওভাবে গোয়েন্দাদের সমালোচনায় করেছেন। তবে শনিবারের বক্তব্যে গোয়েন্দাদের সঙ্গে তার দূরত্ব বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য তিনি গণমাধ্যমকে দায়ী করেছেন।
ট্রাম্পের এ বক্তব্যের কিছু সময় পর হোয়াইট হাউসে প্রেস ব্রিফিং করেন তার প্রেস সেক্রেটারি সেইন স্পাইসার। লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন তিনি। ট্রাম্পের মতো তিনিও দাবি করেন, কায়দা করে ছবি তুলে উপস্থিতির সংখ্যা কম দেখানো হয়েছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পের অভিষেকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ হাজির হয়েছে।
এদিকে, একটি সংবাদমাধ্যমে মার্টিন লুথার কিংয়ের মূর্তি হোয়াইট হাউস থেকে সরিয়ে নেওয়ার যে ভুল খবর প্রকাশ করে, তাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সংবাদটি মুহূর্তে সংশোধন করা হলেও তিনি তা বলেননি।
ট্রাম্প ও স্পাইসারের বক্তব্যের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দি নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে জানানো হয়, অভিষেকে লোকজন হাজিরের যে সংখ্যা দাবি করা হচ্ছে, তা কোনোভাবে যথার্থ নয়। নিঃসন্দেহে ট্রাম্পের অভিষেকের চেয়ে ওবামার অভিষেকে লোক সমাগম বেশি ছিল। অভিষেকে অংশ নেওয়া বাস, ট্রেনে আসা যাত্রীদের পরিসংখ্যান থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই খবর প্রকাশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের দেওয়া তথ্যের কোনো মিল নেই এবং তাদের দাবি যথাযথ নয়।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s