antনবকৃষ্ণ ভট্টচার্যের ‘কাজের লোক’ কবিতাটি নিশ্চয়ই মনে আছে। দলবল ছেড়ে আসা একাকী পিপীলিকাকে তার গন্তব্য জিজ্ঞাসা করায় সে বলেছিল, শীতের সঞ্চয়ের জন্য খাবার খুঁজতে চলেছে। কিন্তু, সে কি তার বাসায় ফিরতে পারবে?
সম্প্রতি ফাইন্ডিংস নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় জানা গিয়েছে, পিঁপড়েরা নাকি দারুণ ভাবে জায়গা চিনে বাড়ি ফিরতে পারে। শুধু তাই নয়, আমাদের চিন্তা ভাবনা থেকে অনেক বেশি বাস্তবুদ্ধি সম্পন্ন তারা। এডিনবার্গ’স স্কুল অব ইনফর্মাটিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর বারবারা ওয়েব জানান, পিঁপড়ের ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক হলেও, নানা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে খুব সহজেই জায়গা চিনে নিজের গন্তব্য পৌঁছতে পারে। এমনকী পিছনের দিকে হেঁটেও ওই জায়গায় পৌঁছে যায় অনায়াসে দাবি বিজ্ঞানী ওয়েবের। তিনি আরও বলেন, “পিঁপড়েরা খুব ছোট খাবার বওয়ার সময় সামনের দিকে নিয়ে যায় এবং তাদের তুলনায় ভারী ও বড় হলে পিছনের দিক করে নিয়ে যায়। কিন্তু কোনও ভুলভ্রান্তি না করেই পৌঁছে যায় গন্তব্যে।” মরুভূমিতে একটি পিঁপড়ের ঝাঁক নিয়ে গবেষণায় মজার তথ্য উঠে এসেছে। ভারী খাবার
বয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়, মাঝে মাঝে সূর্যের অবস্থানও লক্ষ্য করে তারা। আবার সেই মতো নিজেদেরকে সাজিয়ে নিয়ে যাত্রা শুরু করে পিপীলিকার দল। বেশ কিছু পতঙ্গদের মধ্যে ফেরোমন নামে হরমোন নিঃসরণ, যেটি তাদেরকে একত্রিত করতে সাহায্য করে। তেমনই পিঁপড়ের দল তৈরি করতেও এই হরমোন সাহায্য করে।
তবে, পিঁপড়ের এ সব আচরণ থেকে পাওয়া তথ্য কী ভাবে আমাদের ব্যবহারিক জীবনে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা।  শুধু এডিনবার্গ’স স্কুল অব ইনফর্মাটিক্স বিশ্ববিদ্যালয় নয়, লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চ (সিএনআরএস)-এর মতো খ্যাতিনামা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, পিঁপড়ের মস্তিষ্ক আচরণ দিশা দেখাবে নতুন কম্পিউটার অ্যালগরিদম তৈরিতে। যার ফলে রোবট গবেষণায় আমুল পরিবর্তন হতে পারে বলে স্বপ্ন দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisements