republic-day-parade-rajpath-in-new-delhiআজ, বৃহস্পতিবার ভারতের ৬৮তম প্রজাতন্ত্র দিবস। দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দিনটি। দিল্লির রাজপথেও জাকজমক সহকারে পালিত হচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৯৫০ সালের এই দিনটিতেই ভারতের সংবিধান কার্যকর করা হয়েছিল। ১৯৫০ সালের এই দিনটিতেই শপথ নিয়েছিলেন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড.‌ রাজেন্দ্র প্রসাদ। প্রতিবছর দিনটিকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পালন করে ভারত। সারা দেশজুড়ে পালিত হয় নানা কর্মসূচি। দিল্লি, কলকাতাসহ দেশটির নানা প্রদেশের রাজধানীতে চলে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। প্রতিবছরের মতো এই বছরেও  দিবসের এই অনুষ্ঠানের সূচনা করবেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।
দিবসের প্যারেড রাজপথ থেকে শুরু হয়ে যাবে লালকেল্লা পর্যন্ত। প্রতিবছরই এই বিশেষ দিনটিতে উপস্থিত থাকেন নানা সাম্মানিক অতিথি, থাকে বিদেশের শাসক, কূটনীতিকের ভিড়। এ বছরেও সেই ধারা বজায় রেখেই উপস্থিত থাকবেন আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স জায়েদ আল নাহিয়ান। তিনিই এবারের বিশেষ অতিথি। গতকালই বিমানবন্দর থেকে তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এবার বাংলাদেশের ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসও দিনটি উদযাপনের জন্য দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
১৫ আগস্ট ১৯৪৭- এ, দীর্ঘ স্বাধীনতা আন্দোলনের ফলে ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পায়। স্বাধীনতা লাভের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হয় যুক্তরাজ্যের সংসদে ভারতীয় স্বাধীনতা আইন পাস হওয়ার মাধ্যমে। এর ফলে ব্রিটিশ ভারত ভেঙে গিয়ে কমনওয়েলথ অফ নেশনস-এর অন্তর্গত অধিরাজ্য হিসেবে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হয়।
১৫ আগস্ট ১৯৪৭ এ ভারত স্বাধীন হলেও দেশের প্রধান হিসেবে তখনো বহাল ছিলেন ষষ্ঠ জর্জ এবং লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেন ছিলেন এর গভর্ণর জেনারেল। তখনো দেশে কোনো স্থায়ী সংবিধান ছিল না; ঔপনিবেশিক ভারত শাসন আইনে কিছু রদবদল ঘটিয়েই দেশ শাসনের কাজ চলছিল।
১৯৪৭ সালের ২৮ আগস্ট একটি স্থায়ী সংবিধান রচনার জন্য ড্রাফটিং কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ভীমরাও রামজি আম্বেদকর। ৪ নভেম্বর ১৯৪৭ তারিখে কমিটি একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করে গণপরিষদে জমা দেয়। চূড়ান্তভাবে সংবিধান গৃহীত হওয়ার আগে ২ বছর, ১১ মাস, ১৮ দিনব্যাপী গণপরিষদ এই খসড়া সংবিধান আলোচনার জন্য ১৬৬ বার অধিবেশন ডাকে। এই সমস্ত অধিবেশনে জনসাধারণের প্রবেশের অধিকার ছিল। বহু বিতর্ক ও কিছু সংশোধনের পর ২৪  জানুয়ারি ১৯৫০ এ গণপরিষদের ৩০৮ জন সদস্য চূড়ান্ত সংবিধানের হাতে-লেখা দুটি নথিতে (একটি ইংরেজি ও অপরটি হিন্দি) স্বাক্ষর করেন। এর দুদিন পর অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি সারা দেশব্যাপী এই সংবিধান কার্যকর হয়।

Advertisements